টুইটারে পোস্টের জেরে সৌদি শিক্ষকের ২০ বছরের কারাদণ্ড

  • সৌদির নিরাপত্তাহানী করে এমন পোস্টের দায়ে ২০২২ সাল থেকে কারাগারে আছেন তিনি
  • সৌদি যুবরাজ সালমানের উচ্চাভিলাষী ‘ভিশন ২০৩০’ সংস্কার প্রকল্প নিয়ে পোস্ট করেছিলেন তিনি
আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৪, ০৩:৪৫ পিএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে সমালোচনামূলক পোস্টের জেরে সৌদি আরবে এক শিক্ষককে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। টুইটারে নিজ দেশের নিরাপত্তাহানী করে এমন পোস্ট দেওয়ার দায়ে ২০২২ সাল থেকে কারাগারে আছেন তিনি।

মঙ্গলবার নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বরাতে এ খবর জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, দণ্ডপ্রাপ্ত শিক্ষকের নাম আসাদ আল–ঘামদি। ৪৭ বছর বয়সী এ শিক্ষকের বাড়ি সৌদি আরবের জেদ্দায়। ২০২২ সালের নভেম্বরে এক রাতে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সৌদি আরবের বিশেষায়িত অপরাধ আদালতে গত ২৯ মে দোষী সাব্যস্ত করা হয় আসাদকে। এইচআরডব্লিউ বলেছে, সন্দেহভাজন সন্ত্রাসবাদীদের বিচারে ২০০৮ সালে এ আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়।

এইচআরডব্লিউ আরও জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসাদ আল–ঘামদির বেশিরভাগ পোস্টই শান্তিপূর্ণ। এরপরও তাঁকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত।

মানবাধিকার সংস্থাটি জানিয়েছে, যেসব পোস্টের কারণে আসাদকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, সেসবের মধ্যে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উচ্চাভিলাষী ‘ভিশন ২০৩০’ সংস্কার প্রকল্প নিয়ে পোস্টও রয়েছে।

এছাড়া সৌদি আরবের অন্যতম প্রভাবশালী মানবাধিকার কর্মী আবদুল্লাহ আল–হামিদকে স্মরণ করেও একটি পোস্ট দিয়েছিলেন আসাদ। দেশটির কারাগারে বন্দী অবস্থায় মারা যান আল–হামিদ। এ পোস্টের বিষয়বস্তুও আদালতের আমলে আনা হয়।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দ্বারা পর্যালোচনা করা আদালতের নথিগুলোতে দেখা যায়, ঘামদির বিরুদ্ধে ‘সৌদি রাজা এবং ক্রাউন প্রিন্সের ন্যায়বিচারকে চ্যালেঞ্জ করা, ‘মিথ্যা-বিদ্বেষপূর্ণ সংবাদ প্রকাশ করা এবং (টুইটারে) স্বদেশের নিরাপত্তার ক্ষতি করে এমন তথ্য প্রকাশ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ডের জেরে গত বছর আসাদের ভাই মোহাম্মদ আল ঘামদিকে মৃত্যুদণ্ড দেন সৌদি আরবের একটি আদালত। সরকারের সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি।

এছাড়া আসাদের আরেক ভাই সায়েদ সৌদি আরবে একজন ইসলামি চিন্তাবিদ ও সরকারের সমালোচক হিসেবে পরিচিত। তিনি যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। ভাইয়ের কারাদণ্ড এবং সৌদি সরকারের পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত