অপরাধীদের চেহারা পাল্টে দিত যেসব হাসপাতাল

  • প্লাস্টিক সার্জারি করে আসামিদের চেহারা পাল্টে দেওয়া হত ফিলিপাইনের কিছু হাসপাতালে
  • হাসপাতালগুলোতে চুল-দাঁত পাল্টানোর যন্ত্র ও চামড়া সাদা রাসায়নিক দ্রব্য পাওয়া গেছে 
আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৪, ০৩:১৮ পিএম

এমন কিছু হাসপাতালের সন্ধান মিলেছে ফিলিপাইনে। যেখানে প্লাস্টিক সার্জারি করে বড় বড় আসামিদের চেহারা পাল্টে দেওয়া হত। গ্রেপ্তার এড়াতে পলাতক আসামি ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা এসব হাসপাতালে গিয়ে নিজেদের চেহারা পাল্টে নিতেন।

ফিলিপাইন পুলিশের অভিযানে উঠে এসেছে এসব হাসপাতালের অবৈধ কার্যক্রম। শিগগিরই এসব হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।

মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।

গত মে মাসে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার উপকণ্ঠ পাসাই সিটির একটি হাসপাতালে অভিযান চালায় পুলিশ। সে সময় হাসপাতালটি থেকে চুল ও দাঁত প্রতিস্থাপন করার যন্ত্রপাতি ও চামড়া সাদা করার রাসায়নিক দ্রব্য উদ্ধার করা হয় বলে জানান ফিলিপাইন পুলিশের একজন মুখপাত্র।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেনশিয়াল অ্যান্টি-অর্গানাইজড ক্রাইম কমিশনের মুখপাত্র উইনস্টন জন ক্যাসিও বলেন, ‘এসব হাসপাতালে একজন অপরাধীকে চেহারা পাল্টে পুরোদস্তুর নতুন একজন মানুষে তৈরি করতে পারত।’

তিনি আরও জানান, ফিলিপাইনে অবৈধভাবে কাজ করা বিভিন্ন অনলাইন ক্যাসিনোর কর্মীরা এসব হাসপাতালে সেবা নিয়ে থাকে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, নজরদারিতে রাখা হয়েছে আরও দুটি হাসপাতালকে। সেগুলো পাসাই সিটির ওই হাসপাতাল থেকে চার গুণ বড় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় তিনজন চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে দুজন ভিয়েতনামের ও একজন চীনের নাগরিক। অপর দিকে এ ঘটনায় চীনের একজন ফার্মাসিস্ট ও ভিয়েতনামের এক নার্সকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কারণ, ফিলিপাইনে তাঁদের কাজ করার লাইসেন্স ছিল না।

জন ক্যাসিও আরও বলেন, ‘বাইরে থেকে এসব ক্লিনিককে স্বাভাবিক মনে হয়। কিন্তু ভেতরে ঢোকার পর তাদের যন্ত্রপাতি দেখে আপনি অবাক হবেন। এসব হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দরকার হয় না। আপনি পলাতক আসামি কিংবা অবৈধ বিদেশিও হতে পারেন।’

ফিলিপাইনের অনলাইন ক্যাসিনোগুলো চীনা খেলোয়াড়দের সেবা দেয়, যেখানে জুয়া খেলা অবৈধ। কিন্তু পুলিশ বলেছে এই অনলাইন ক্যাসিনোগুলো প্রতারণা এবং মানব পাচারের মতো অপরাধমূলক কার্যকলাপের জন্য ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

পাসাই সিটিতে অবৈধ হাসপাতালের অস্তিত্ব সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে গোপনে জানানো হয়েছিল। সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের আমলে ফিলিপাইনে অনলাইন জুয়া ব্যাপক ছড়িয়ে পড়ে। ২০২২ সাল পর্যন্ত তাঁর ছয় বছরের প্রেসিডেন্ট মেয়াদে চীনের সঙ্গে দেশটির সুসম্পর্ক বজায় ছিল।

কিন্তু বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত