সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

জমি নিয়ে বিরোধ, বড় ভাইকে গরম পানি ছুড়ে মারল ছোট ভাই  

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৪, ০৫:৪৫ পিএম

হাটহাজারীতে গরম পানি ছুড়ে মেরে বড়ভাইকে ঝলসে দেওয়া সেই ছোটভাইয়ের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। গত ৮ জুলাই ভুক্তভোগীর স্ত্রী গোলতাজ বেগমের দেওয়া লিখিত অভিযোগের তদন্তের সত্যতা পেয়ে অভিযুক্ত শাহ আলমসহ (৪৮) তিনজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রেকর্ড করেছেন হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান। 

মামলার অপর দুই আসামি হলেন, প্রধান আসামি শাহ আলমের স্ত্রী রুজি আক্তার (৪০) ও ছোটভাই আবুল কালাম (৪০)। নিয়মিত মামলা দায়ের হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে হাটহাজারী থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান। তিনি বুধবার (১০ জুলাই) দেশ রূপান্তরকে বলেন, জায়গাজমি নিয়ে আপন ভাইয়ের সঙ্গে বিরোধ থাকতেই পারে। তাই বলে গরম পানি ছুড়ে মেরে বড়ভাইকে হত্যা চেষ্টা করতে হবে? এটা মেনে কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। অভিযুক্ত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করা হবে।’    

 গত ৬ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাটহাজারী থানাধীন ১ দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড়দিঘির পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী বড়ভাই খোরশেদ আলম (৫০) স্থানীয় ডাক্তার মৃত হামদু মিয়ার ছেলে। তিনি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে চতুর্থ শ্রেণির সিভিল স্টাফ হিসেবে কর্মরত আছেন। 

এদিকে গুরুতর আহত খোরশেদ আলমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৮ জুলাই দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল (চমেক) হাসপাতাল থেকে নগরের পতেঙ্গায় নৌবাহিনীর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে গত ৬ জুলাই দুপুর থেকে খোরশেদ আলম চমেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ওয়ার্ডের ২৬ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন ছিলেন।    

তার স্ত্রী গোলতাজ বেগম জানান, চমেক হাসপাতালের চিকৎসকেরা গরম পানিতে তার স্বামীর শরীরের ৮ শতাংশ ঝলসে গেছে বলে দাবি করলেও নৌবাহিনী হাসপাতালের চিকিৎসকেরা বাস্তবে আরও বেশি ঝলসে গেছে বলে তাকে জানিয়েছেন। এই হাসপাতালে তার স্বামীর ভাল চিকিৎসা চলছে বলেও জানান গোলতাজ।   

গত শনিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে বসতঘরের সীমানা নিয়ে প্রতিবেশি ছোটভাই শাহ আলমের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে খোরশেদের শরীরের ওপর গরম পানি ছুড়ে মারেন শাহ আলম। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করেন প্রতিবেশিরা। বর্তমানে খোরশেদ আলম চমেক হাসপাতালের ওই ওয়ার্ডের ৬ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন। গরম পানিতে খোরশেদের মাথা, চোখ, মুখ, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে গেছে। 

গোলতাজ বেগম জানান, তার দুই মেয়ে। বড় মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস জুলি বিবাহিত। ছোট মেয়ে সুরাইয়্যা বেগম সায়মা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। 

গোলতাজের অভিযোগ, বসত ঘরের সীমানা নিয়ে তার দেবর প্রতিবেশি শাহ আলমের সঙ্গে তার স্বামী খোরশেদ আলমের বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে অনেক শালিস হয়েছে। শাহ আলম কাউকে মানেন না। আদালতে হয়রানিমূলক মামলা করে তাদের হয়রানি করছেন শাহ আলম।
    

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত