রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বাড়েনি বরাদ্দ মিলেছে প্রতিশ্রুতি

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৪, ০৮:২৮ পিএম

বার্ষিক অনুদান বাড়েনি। তবে মিলেছে ক্রীড়া মন্ত্রী নাজমুল হাসানের প্রতিশ্রুতি। ফেডারেশনগুলোর কর্মকান্ড নয়া মন্ত্রীর অধীনে অনেকটা বাড়বে, এমন ভাবনা যাদের ছিল তাদের হতাশ হতে হয়েছে। ক্রিকেট বাদ দিলে দেশের বাদ বাকী ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা বাজেট সঙ্কট। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি বছর যে অনুদান পাওয়া তা দিয়ে সত্যিকার অর্থে অফিস খরচা চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে।

ফেডারেশন কর্তারাও আর্থিক সঙ্কটের বিষয়টি সামনে এনে পিঠ বাঁচান। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ক্রীড়া ফেডারেশন ও ক্রীড়া সংস্থাগুলোর জন্য বার্ষিক অনুদান হিসেবে বরাদ্দ হয়েছে ৩৬ কোটি টাকা। আগের অর্থ বছরের অঙ্কটি ছিল ৩৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা। অর্থাৎ পঞ্চাশোর্ধ ক্রীড়া ফেডারেশনের জন্য বরাদ্দ বেড়েছে মাত্র ১০ লাখ টাকা। যদিও ক্রীড়া মন্ত্রী দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে বিশেষ চাহিদাপত্র পাঠিয়েছেন তিনি। সেটা মিলে গেলে ফেডারেশনগুলোকে আরও কিছু অর্থ বরাদ্দ দিতে পারবেন। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় চাহিদার কতটা পূরণ করবে, সেটা এখনও অজানা।

বরাদ্দকৃত এই ৩৬ কোটি টাকা ফেডারেশন, জেলা-বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে পরিচালন ব্যয়, খেলাধূলা আয়োজন ও প্রশিক্ষণের জন্য দেওয়া হবে। যেটা চাহিদার তুলনার ভীষণ কম। ক্রীড়ার মানোন্নয়নে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভালো ফলাফল বয়ে আনতে এই বরাদ্দ বলতে গেলে কিছুই নয়। এটা বোঝেন ক্রীড়া মন্ত্রী ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান। বুধবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী সভা শেষে তিনি বলেন,‘ অর্থ মন্ত্রণালয়ে আমরা একটা চাহিদাপত্র দিয়েছি। সেই চাহিদাপত্রের কতটুকু পূরণ হবে জানি না। সেখান থেকে কিছু পেলে আমরা ফেডারেশনগুলোকে আরো সহায়তা দিতে পারবো।'

ক্রীড়া মন্ত্রণালয় যে চাহিদাপত্র অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে তাতে ফুটবল রাখা হয়নি। কারণ ফুটবলের একার চাওয়া সবার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের অনেক বেশি। মন্ত্রী তাই আরেকবার ফুটবলের সঙ্গে বসে তাদের বিষয়টি ঠিক করতে চাইছেন, 'অন্য সব ফেডারেশন মিলে যা চাহিদা, ফুটবলে একাই সেই চাহিদা। ফুটবলের সঙ্গে আরেকবার আলোচনায় বসে ঠিক করতে হবে।'

এই অপ্রতূল বরাদ্দের মাঝেও ফি বছর ফুটবলকেই দেওয়া সবচেয়ে বেশি টাকা। ফুটবল ফেডারেশন সর্বোচ্চ ২৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা পায়। হকি ফেডারেশন পায় ফুটবলের চেয়ে ৬০ হাজার টাকা কম। সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স, শুটিং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫ লাখ করে পায়। ২০ লাখ টাকা কিছু বেশি পায় মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, ভলিবল ফেডারেশন। টেবিল টেনিস, জিমন্যাস্টিক্স, বাস্কেটবল, ব্যাডমিন্টনের জন্য ১৫ লাখের আশেপাশে। সরকারের কাছ থেকে এত কম সহায়তা সত্যেও বেশ কিছু ফেডারেশন নিজস্ব চেষ্টায় নিয়মিত ঘরোয়া আসর আয়োজনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আসর আয়োজন ও বিদেশে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশ নেয়। বিদেশে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্য কখনও কখনও সরকারের কাছ থেকে মেলে আর্থিক সহায়তা। আবার কখনও মিলে না। কষ্টশিষ্টে তারপরও বিদেশে দল পাঠানো ফেডারেশনগুলো আবার ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও ক্রীড়া পরিষদের কর্তাদেরও সফরসঙ্গী করতে হয় আইনের আওতায় পরে। ২০২৩ সালে এক প্রজ্ঞাপনে সফরসঙ্গী করার বিষয়টি আবশ্য করা হয়েছে। যেটা মরার ওপর খাড়ার ঘায়ের মতোই ব্যাপার। তবে অনেক ফেডারেশনই এই আইনটা এড়িয়ে যেতে বাধ্য হয়। 

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী সভায় আয়-ব্যয়ের হিসাব ছাড়াও সাধারণ কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। নিয়মে থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে নেই কোন চিকিৎসক। সম্প্রতি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পুরাতন ভবনে অবস্থিত বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনে জাতীয় দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ খেলাবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন গ্র্যান্ড মাস্টার জিয়াউর রহমান। ক্রীড়া পরিষদের চিকিৎসক থাকলে প্রাথমিক চিকিৎসাটা হয়তো সেখানেই পেতে পারতেন জিয়াউর রহমান। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে মন্ত্রী দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেন। এছাড়া টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে বীর মুক্তিযোদ্ধ মরহুম মির্জা তোফাজ্জল হোসেন মুকুলের নামে নামকরণের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছিল। পাশাপাশি বাংলাদেশ অ্যামেচার বক্সিং ফেডারেশনের নাম থেকে অ্যামেচার বাদ দেওয়ারও একটা প্রস্তাব আসে। দু'টি ইস্যুই পরবর্তী নির্বাহী সভায় আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

এছাড়া মন্ত্রী নাম সর্বস্ব ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন সভায় তবে ক্রীড়া পরিষদের কর্তারা এসব বিষয়ে যথাযথ দিতে উত্তর দিতে পারেননি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত