সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডকে টেস্ট ম্যাচে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল বাংলাদেশ। যে জয়ের পর আলোচনায় এসেছিলেন পিচ কিউরেটর টনি হেমিং। অস্ট্রেলিয়ার এই কিউরেটরের কাজ প্রশংসা কুড়িয়েছিল ক্রিকেট মহলে। তাই তাকে নিয়ে লম্বা পরিকল্পনারও ছক কষা হয়েছিল। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার ১ বছর আগেই তিনি বিদায় বললেন বিসিবিকে।
বোর্ডে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এই অস্ট্রেলিয়ান কিউরেটর। তার এমন বিদায়ে নানান গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই দায় দিচ্ছেন দূরদর্শিতার অভাবকে। যদিও বুধবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হেমিংয়ের বিদায় খবরের জানিয়েছে বিসিবি।
গত বছরের জুলাইয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পরেই নিজের অভিজ্ঞতার জানান দিচ্ছিলেন হেমিং। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন গ্রাউন্ড নিয়ে কাজ করা এই মৃত্তিকা বিশারদ, অল্প কয়েকদিনেই দৃশ্যমান পরিবর্তন আনেন সিলেট ও চট্টগ্রামের আউটফিল্ডে। শুধু এই দুই জায়গায় নয়, এক সপ্তাহ আগে তৈরি করে এসেছেন বরিশালের শহীদ আবদুর সেরনিয়াবাত স্টেডিয়ামের নতুন উইকেট। গ্রাউন্ডসের উন্নতিতে কিছু উন্নত যন্ত্রপাতি কেনার পরামর্শের পাশাপাশি, মৃত্তিকাবিজ্ঞানে অভিজ্ঞ তরুণদের কিউরেটর হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টাও শুরু করেছিলেন।
তবে নিজের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার বাস্তবায়ন অসমাপ্ত রেখে হুট করেই হেমিং বিদায় বললেন বাংলাদেশের ক্রিকেটকে। আর তার এমন হঠাৎ পদত্যাগে নানান গুঞ্জনের জন্ম হয়েছে ক্রিকেট পাড়ায়। এক সূত্রের দাবি, বোর্ড পরিচালকের সঙ্গে মত বিরোধে সরে দাঁড়িয়েছেন এই অভিজ্ঞ কিউরিটের। যদি এটা শুধুই গুঞ্জনও হয়, তবুও দায় এড়ানোর সুযোগ নেই দেশের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার।
প্রাথমিকভাবে ২০২৩ সালে পূর্বাচল স্টেডিয়াম পুরোপুরি প্রস্তুতের কথা থাকলেও, এখনও অধিকাংশ কাজ বাকি রয়ে গেছে। আর বিসিবির এই মেগা প্রজেক্টের জন্য যে কিউরেটরকে আনা হয়েছিলো, সেই হেমিংয়ের বিদায়ঘণ্টা বাজলো ভেন্যুর মুখ না দেখেই।
যদিও হেমিংয়ের বিদায়ের ঘোষণাটা এসেছে বুধবার। তবে তাকে কিউরেটর হিসেবে নিয়োগের ব্যাপার মাস দুয়েক আগে থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল নাকি পাকিস্তান। ২১ মে তাকে নিয়োগ দিতে ইচ্ছুক পিসিবি, এমন খবর প্রকাশ করেছিল ক্রিকেট পাকিস্তান। বিসিবি হেমিংয়ের পরবর্তী গন্তব্য উল্লেখ না করলেও, আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে শুভকামনা।
বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী হেমিংকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, 'টনি হেমিং বিসিবির জন্য অমূল্য সম্পদ ছিলেন। তিনি তার বিস্তৃত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দিয়ে আমাদের ক্রিকেটের অবকাঠামো উন্নত করতে সাহায্য করেছেন। তার পরিশ্রমী মনোভাব এবং নিবেদন বাংলাদেশের মাঠ প্রস্তুতির মান উন্নত করেছে, সেখানে একটি স্থায়ী প্রভাব ফেলেছে।’
