এপ্রিলে বিতরণ করা ক্ষুদ্রঋণের ৭৭ শতাংশ তিন এনজিওর

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৪, ০৬:৫৬ এএম

দেশের গ্রাম ও শহরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ সুবিধা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত। তাদের একমাত্র ভরসা বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণগ্রহণ। যার জোগান দেয় এ দেশের এনজিও পরিচালিত ক্ষুদ্রঋণ ও বিভিন্ন বেসরকারি আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। গত এপ্রিলে এসব প্রতিষ্ঠান দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে ১২ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণ করেছে, যার প্রায় ৭৭ শতাংশই বিতরণ করেছে ব্র্যাক, আশা ও গ্রামীণ ব্যাংক। এ সময় এনজিওগুলো যে পরিমাণের ঋণ বিতরণ করেছে তারচেয়ে আড়াই হাজার কোটি টাকা বেশি আদায় করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

দেশের প্রায় সাড়ে ৩ কোটি গ্রাহককে ক্ষুদ্রঋণ সুবিধা দিচ্ছে ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করেছে ব্র্যাক। গত এপ্রিলে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা বিতরণ করেছে ব্র্যাক, যা এ সময়ে মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৩৮ শতাংশ। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির ঋণ আদায়ের পরিমাণ ৬ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা। ব্র্যাকের বর্তমাণ ঋণের স্থিতি ৪১ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা। আর বকেয়া ঋণ ১ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এনজিও প্রতিষ্ঠান আশা গত এপ্রিলে ঋণ বিতরণ করেছে ৩ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির আদায়কৃত ঋণ ৩ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা, যা এ সময়ে বিতরণ করা মোট ঋণের ২৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির বকেয়া ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ঋণের স্থিতি ৩০ হাজার ৬১৮ কোটি টাকা।

ঋণ বিতরণে তৃতীয় অবস্থানে আছে গ্রামীণ ব্যাংক। ব্যাংকটি গত এপ্রিলে বিতরণ করেছে ১ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা, যা গত এপ্রিলে বিতরণ করা মোট ঋণের ১২ শতাংশ। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির আদায়ের পরিমাণ ১ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা। আর বকেয়া ঋণের পরিমাণ ৪২১ কোটি টাকা। গ্রামীণ ব্যাংকের বর্তমান ঋণের স্থিতি ১৬ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা।

চতুর্থ অবস্থানে আছে ব্যুরো বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটির বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ৮৬১ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির আদায়ের পরিমাণ ১ হাজার ১১১ কোটি টাকা। আর বকেয়া ঋণের পরিমাণ ৩৪১ কোটি টাকা। ব্যুরো বাংলাদেশের ঋণের স্থিতি ১০ হাজার ৫৮ কোটি টাকা।

এপ্রিলে ঋণ বিতরণে পঞ্চম অবস্থানে থাকা টিএমএসএস’র পরিমাণ ৬৯৬ কোটি টাকা। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির আদায় ৬৮৩ কোটি টাকা। আর বকেয়া ঋণের পরিমাণ ৩৬৪ কোটি টাকা। আর বর্তমান ঋণের স্থিতি ৫ হাজার ৮১০ কোটি টাকা।

তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরে গ্রামীণ ব্যাংকসহ ১১টি ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান ১২ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ কম। এসব প্রতিষ্ঠানের বিতরণ করা ঋণের বেশিরভাগই দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ আদায়ের পরিমাণ ১৫ হাজার ৩০ কোটি টাকা। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট ১৩ হাজার ১৭৮টি শাখার মাধ্যমে ৩ কোটি ৪১ লাখ গ্রাহক এই ঋণ সুবিধা গ্রহণ করেছেন।

বর্তমানে শীর্ষ ১১ এনজিওর ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ১৭ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা। এসব প্রতিষ্ঠানের বকেয়া ঋণের পরিমাণ ৬ হাজার ১২ কোটি টাকা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত