দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে খুলনা শহরে ঢোকার প্রধান চার সড়কই ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা। চলতি বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে। ফলে প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক, যাত্রী ও পথচারীরা।
খুলনা শহরে ঢোকার অন্যতম প্রবেশদ্বার জিরোপয়েন্ট-গল্লামারী সড়ক। তবে সম্প্রতি সড়কটির ময়ূর নদের ওপর নতুন একটি সেতু নির্মাণে পুরাতন জোড়া সেতুর একটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফলে পাশে থাকা অন্য সেতু দিয়েই চলাচল করছে ছোট ও মাঝারী যানবাহন। কিন্তু সরু এই সেতুটি ভঙ্গুর ও নড়বড়ে। ফলে নগরীর সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে যেতে বিকল্প সড়ক হিসেবে সোনাডাঙ্গা থানার সামনে থেকে জয়বাংলা মোড়ের সড়ক ব্যবহার করছে বাস-ট্রাকের চালকরা। কিন্তু সড়কটি খানাখন্দে ভরা। চলতি বর্ষায় সড়কটি আরও বেহাল হয়ে পড়েছে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যাত্রীদের।
শুধু জয়বাংলার মোড় থেকে সোনাডাঙ্গা থানার সামনের সড়কই নয়; মহানগরী খুলনাতে প্রবেশের আরও তিন সড়ক রূপসা ব্রিজ হয়ে শিপইয়ার্ড থেকে ট্রাফিক ইন্টার-সেকশন, মোস্তফার মোড় থেকে রায়েরমহল স্লুইস গেট ও শেখ আবু নাসের হাসপাতাল সংযোগ সড়কেরও (তালুকদার আব্দুল খালেক সড়ক) অবস্থা একই। সড়কগুলো ছোট-বড় গর্তে ভরা। কোথাও উঠে গেছে কার্পেটিং। এতে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো জানায়, খুলনার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)—এই চার সড়কের মালিকানায় রয়েছে।
কেডিএ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩-০৪ অর্থবছরে নগরীর বাস্তুহারা এলাকা থেকে সিটি বাইপাস পর্যন্ত দুই দশমিক ৩৭ কিলোমিটার সড়কটি নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এরপর ২০০৮-০৯ অর্থবছরে নির্মাণকাজ শেষ হয়। ২০০৯ সালে কাজ শেষ হওয়ার পর বাস্তুহারা মোড় থেকে রমজানের সেতু পর্যন্ত (করপোরেশনের অধিক্ষেত্রে) খুলনা সিটি করপোরেশনকে ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তরের কাছে সড়কটি বুঝিয়ে নিতে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু তারা সড়কটির সংস্কারে উদ্যোগ নেয়নি।
সরেজমিনে ওই সড়কে গিয়ে দেখা গেছে, অনেক আগেই বিটুমিন উঠে যাওয়ায় সড়কে কাদা-বালু জমে কাঁচা রাস্তার মতো হয়ে গেছে। রাস্তায় সৃষ্ট খানাখন্দে বৃষ্টির পানি জমে আছে, আটকে যাচ্ছে গাড়ি। এতে জনসাধারণকে চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল হক বলেন, ‘সংস্কারের অভাবে সড়কটি একদম চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে গাড়ি কোনোভাবেই চলাচল করতে পারছে না। ফলে মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান বলেন, ‘করপোরেশনের অংশের সড়ক পুনরায় নির্মাণে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে।’
শিপইয়ার্ড সড়কের বাসিন্দা জুবায়ের আলম বলেন, ‘এ সড়কে খোয়া ও বালু দিয়ে সমান করা হয়েছে। কিন্তু চলতি বর্ষায় অনেক স্থানে ছোট-বড় গর্ত ও গাড়ি চলাচলের কারণে সড়কে উঁচু-নিচু সৃষ্টি হয়েছে। সেইসঙ্গে কর্দমাক্ত হয়ে পড়ছে সড়কটি। ফলে মোটরসাইকেল, ইজিবাইকসহ যানবাহন চলতে গিয়ে প্রায়ই উল্টে যাচ্ছে। চলাচল অনিরাপদ হয়ে পড়ছে।’
এ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আরমান হোসেন ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক কাওসার আহমেদ বলেন, ‘সড়কে এখনো দুটি স্তরে খোয়া ও পাথর দেওয়া বাকী রয়েছে। ওয়াসার লাইন বসানোর কারণে এ কাজ করা যাচ্ছে না। তবে সেতু ও কালভার্ট নির্মাণকাজ চলছে।’
মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানার সামনে থেকে জয়বাংলা মোড় পর্যন্ত সড়ক দুই সংস্থা খুলনা সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তরের অধীনে। এর মধ্যে ময়ূরী সেতুর পূর্বপাশের মালিক খুলনা সিটি করপোরেশন। পশ্চিম অংশের মালিকানা এলজিইডির। পশ্চিম অংশের সড়ক মাত্র আড়াই বছর আগে পুননির্মাণ করা হয়। তবে চলতি বর্ষায় বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। পূর্বপাশে গত বছর পিচের সড়কে ইট বিছিয়ে চলাচলে উপযোগী করা হয়। এ বছর বর্ষায় সেই ইট ভেঙে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে গেছে। সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়েছে গেছে। ফলে সড়কটিতে বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকারসহ সব ধরণের যানবাহনকে দোল দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ করিম বলেন, ‘করপোরেশনের অংশের সড়ক সংস্কারে একটি প্রকল্পে দেওয়া আছে।’
এদিকে মহানগরীর মোস্তফার মোড় থেকে রায়েরমহল স্লুইস গেট পর্যন্ত সড়কে কাজ চলছে। ঠিকাদার সড়কে খোয়া আর বালু ফেলে চলে গেছে। দীর্ঘদিনেও তাদের খোঁজ নেই। চলতি বর্ষায় ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা সড়ক পার হতে গিয়ে পড়ে যাচ্ছে। তাছাড়া বৃষ্টিতে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল আলম বলেন, ‘ঠিকাদারকে কাজ শেষ করতে বলা হচ্ছে, কিন্তু তিনি কথা শুনছেন না। তবে ঠিকাদার দ্রুত কাজ শেষ না করলে এবার দাপ্তরিকভাবে তাকে সতর্ক করা হবে।’
