ছয় বছর আগে ২০১৯ সালের ১৩ জুলাই এক ভারতীয় মৎস্যজীবীকে উদ্ধার করেছিলেন এমভি জাওয়াদের নাবিকরা। পুরনো সেই ঘটনার ছবি ও ভিডিও ফেসবুক ও ইউটিউবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সবাই দেদারছে সেটি শেয়ার করছে।
ঘটনাটির বর্ণনায় জানা যায়, ভারতের হলদিয়া অঞ্চলে ১৫ সঙ্গীর সাথে মাছ ধরার সময় প্রচণ্ড ঝড় শুরু হয়। একসময় ট্রলার উল্টে প্রচণ্ড ঢেউয়ে একেকজন একেক দিকে ভেসে যায়। তেমনি একজন রবীন্দ্রনাথ দাস। তার বাড়ি ভারতের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলায়। পেশায় একজন মৎস্যজীবী। পেশায় জেলে হওয়ায় জলের প্রতি ভয় ছিল তার কম, আর মনে ছিল প্রচণ্ড সাহস। তাই গভীর সমুদ্রে ভেসে গেলেও বেঁচে থাকার সাহস হারাননি। ভাসতে ভাসতে ১ ঘণ্টা ২ ঘণ্টা করতে করতে ১ দিন থেকে ২ দিন হয়ে যায়।
রবীন্দ্রনাথের শরীর দুর্বল হয়ে যায় কিন্তু বাঁচার কোনো অবলম্বন খুঁজে পান না। খাবার বলতে কেবল যখন বৃষ্টি নামে তখন সেই বৃষ্টির জল। কারণ সমুদ্রের লোনা জল পান করাও যায় না। তবুও রবীন্দ্রনাথ হার মানেননি। ভাসতে ভাসতে ৫ দিন পার হয়ে যায়। ৫ দিন পর প্রায় ৬০০ কিমি ভাসতে ভাসতে বাংলাদেশের কুতুবদিয়ায় এসে পৌঁছেন তিনি।
তখন বাংলাদেশের জাহাজ ‘এমভি জাওয়াদের’ ক্যাপ্টেন অনেক দূর থেকে তাকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান। দেখতে পেয়ে তড়িঘড়ি করে তার দিকে লাইফ জ্যাকেট ছুড়ে মারেন। কিন্তু তিনি ধরতে পারেননি। তলিয়ে যায়। কিন্তু জাহাজের ক্যাপ্টেন জাত পাত, ধর্মীয় ভেদাভেদ, সীমানার কাঁটাতার ভুলে তার পেছনে ছুটতে থাকেন। বেশ কিছুক্ষণ পর কিছুটা দূরে আবার তাকে দেখা যায়। ক্যপ্টেন তাৎক্ষণিক জাহাজ সেদিকে ঘুরিয়ে আবার একটি লাইফ জ্যাকেট ছুড়ে দেন। এক পর্যায়ে রবীন্দ্রনাথ লাইফ জ্যাকেট ধরতে পারেন। পরে জাহাজের কাছাকাছি আসলে ক্রেন ফেলে তাকে জাহাজের ওপর তোলা হয়।
তাকে জাহাজে তোলার দৃশ্যটি জাহাজের একজন নাবিক ভিডিওতে ধারণ করেন। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, রবীন্দ্রনাথকে যখন সফলভাবে জাহাজে তোলা সম্ভব হয় তখন জাহাজের সব নাবিকেরা খুশিতে চিৎকার করে উঠেন। একজন মানুষের জীবন বাঁচানোর আনন্দে তারা আত্মহারা হয়ে যান।
