দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির আলোচনা থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। গোষ্ঠীটির এক নেতা জানিয়েছেন ইসরায়েলিদের ‘গণহত্যা’ এবং আলোচনার ক্ষেত্রে তাদের বিরূপ আচরণের কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
সংগঠনটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আজ রোববার এএফপিকে বলেন, যুদ্ধবিরতির আলোচনা থেকে তাদের প্রতিনিধিদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, কারণ ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেও গাজায় গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে এবং যুদ্ধবিরতির আলোচনায় তাদের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
হামাসের এক কর্মকর্তা বলেন, হামাসের রাজনৈতিক শাখার নেতা ইসমাইল হানিয়া আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের তার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। আলোচনা বন্ধ করার কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, দখলদার বাহিনী আলোচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না, এ ছাড়া আলোচনায় বিলম্ব ও বাধা অব্যাহত নীতি বজায় রেখেছে এবং একই সঙ্গে নিরস্ত্র বেসামরিক লোকজনের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, হামাস আলোচনা থেকে সরে যাচ্ছে না। হামাসের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সও একই তথ্য জানিয়েছে। হামাসের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সদস্য ইজ্জাত এল-রেশিকের বিবৃতিতে বিষয়টি জানানো হয়। তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে আরব মধ্যস্থতাকারীদের এবং যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রচেষ্টাকে লাইনচ্যুত করার চেষ্টা করার অভিযোগও করেন।
গতকাল শনিবার গাজার ‘নিরাপদ অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া আল-মাওয়াসি এলাকায় প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলের এই হামলায় সেখানে ৯০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হন। এই হামলাকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছে হামাস। তারা বলেছে সাধারণ মানুষের ওপর সবার সামনে বর্বর হামলা চালিয়েছে তারা।
ইসরায়েলি এক কর্মকর্তা বলেছেন, হামাসের সামরিক শাখার প্রধান মোহাম্মদ দেইফকে লক্ষ্য করে আল-মাওয়াসির এক ‘উন্মুক্ত এলাকায়’ হামলা করা হয়েছে। ওই এলাকায় কেবল হামাসের সদস্যরা ছিলেন। সেখানে কোনো বেসামরিক লোকজন ছিলেন না।
খান ইউনিসে হামাসের কমান্ডার রাফা সালামাকেও এই হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন ওই কর্মকর্তা। তবে নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করার ইসরায়েলি দাবিকে মিথ্যা বলে অভিহিত করেছে হামাস। এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী এই গোষ্ঠী বলেছে, ফিলিস্তিনি নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করার ইসরায়েলি দাবি এটাই প্রথম নয়। অতীতেও তাদের এমন দাবি অসংখ্যবার মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
হামাসের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে জানানো হয়েছে মোহাম্মদ দেইফ ভালো আছেন এবং তিনি সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছেন। আল মাওয়াসিতে হামলার পরই যুদ্ধবিরতির আলোচনা থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাধীনতাকামী এ সশস্ত্র গোষ্ঠী।
হামলা কি ট্রাম্পের ভাগ্য ফেরাবে