চলচ্চিত্রের শুরু থেকে শেষ কাজটি প্রযোজক করেন

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৪, ১০:৪৭ এএম

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চলচ্চিত্র নির্মাণের পেছনে একজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, তিনি একজন প্রযোজক। বড় কলাকুশলীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই একটি চলচ্চিত্র প্রাণবন্ত হয়, এটা ঘটে একজন প্রযোজকের ব্যবস্থাপনায়। হ্যাঁ, একজন প্রযোজক সিনেমা বানাতে শুধু টাকাই ঢালেন না, তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র নির্মাণের অর্থ ব্যবস্থাপক। মো. আসাদুজ্জামান সকাল নির্মাণ প্রতিষ্ঠান হাফ স্টপ ডাউনের একজন চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপন প্রযোজক। তিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরীর প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন। সকালের সঙ্গে চলচ্চিত্রের নেপথ্যের বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন মাহতাব হোসেন

চলচ্চিত্রজগতে আপনি কত দিন ধরে কাজ করছেন?

আমি ২০০৭ সালে লাইন প্রোডিউসার হিসেবে আমার ক্যারিয়ার শুরু করি। চলচ্চিত্র সম্পর্কে আমার সীমিত ধারণা ছিল, কেননা আমি ব্যবসায়িক ব্যাকগ্রাউন্ডের মানুষ। এরপরই অমিতাভ রেজা চৌধুরীর সঙ্গে কাজ শুরু করলাম। তিনি আমাকে এই পথ চেনালেন। হাফ স্টপ ডাউনের মাধ্যমে নানা ধরনের বিজ্ঞাপন প্রযোজনা শুরু করলাম। ২০২১ পর্যন্ত অনেক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, ডকুমেন্টারি, ওয়েব সিরিজ, পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছি। এরপর আমার নিজের প্রতিষ্ঠান বানালাম, যেটার নাম ডিজিটাল শ্যাডো।

চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে একজন প্রযোজকের ভূমিকা কী?

এখানে একটি ভুল ধারণা আছে যে একজন প্রযোজক শুধু একজন বিনিয়োগকারী। একজন প্রযোজকের দায়িত্ব হলো শুরু থেকেই পরিচালক নির্বাচন করে চলচ্চিত্রের নানা বিষয়কে এগিয়ে নেওয়া ও বিনিয়োগকারীর সন্ধান এবং বিনিয়োগ নিশ্চিত করা। প্রথমে গল্প দিয়ে শুরু, এরপর পরিচালকের অন্যতম সহায়ক হয়ে ওঠা। পরিচালকের দৃষ্টিভঙ্গি মাথায় রেখে, প্রযোজক অর্থ পরিচালনা করেন, ক্রু সদস্যদের নিয়োগ করেন, চলচ্চিত্র মুক্তির আগ পর্যন্ত সম্পূর্ণ নির্মাণের পরিকল্পনা এবং সমন্বয় করেন। তিনি সময়মতো প্রোজেক্টটি সম্পন্ন ও পরিবেশনের জন্য রেসপন্সিবল।

আপনার উল্লেখযোগ্য কিছু কাজের কথা যদি বলতেন...

২০২১ সালে বিশ্বব্যাপী মুক্তিপ্রাপ্ত অমিতাভ রেজা চৌধুরীর রিকশা গার্ল চলচ্চিত্রের নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে কাজ করেছি আমি। এর আগে, আমি ২০২০ সালে রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের ‘নোনাজলের কাব্য’ ছবির সহ-প্রযোজক ছিলাম। দুটি চলচ্চিত্রই বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন উৎসব এবং থিয়েটারে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। আমি গত বছর চরকির জন্য আবিদ মল্লিক পরিচালিত ‘প্রচলিত’ নামে একটি ওয়েব সিরিজও প্রযোজনা করেছি।

অমিতাভ রেজা চৌধুরী একজন খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা। আপনি অনেক দিন ধরে তার সঙ্গে আছেন, অভিজ্ঞতা কেমন?

আমি খুব কমই তার মতো একজন নিবেদিত এবং আন্তরিকভাবে চলচ্চিত্র নির্মাতার সঙ্গে দেখা পেয়েছি। আমার সব সফল কাজের পেছনে তার স্বতঃস্ফূর্ত, কঠোর পরিশ্রম রয়েছে। একজন প্রযোজক হিসেবে তাকে সমর্থন করতে পারাটা আমার জন্য সম্মানের। আমি প্রয়োজনীয় প্রতিটি সরঞ্জাম দিয়ে তাকে সহজ করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করি।

বাংলাদেশে চলচ্চিত্র নির্মাণের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কী?

সত্যি বলতে, এ দেশের চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ খুবই চমৎকার ও সম্ভাবনাময়। অনেকেই এই ইন্ডাস্ট্রিতে লগ্নি করার জন্য এগিয়ে আসছে। লগ্নি করার মতো ভালো ভালো প্ল্যাটফর্মও তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের উপস্থিতি বাড়ছে। আমি বিশ্বাস করি, আমরা প্রযোজকদের সম্মিলিতভাবে আমাদের কাজ করতে হবে, ভালো গল্প নিয়ে এগোতে হবে, সম্ভাবনার প্রতিটি দরজায় কড়া নাড়তে হবে। যত বেশি চলচ্চিত্র হবে, সামগ্রিকভাবে শিল্পের জন্য তত ভালো। যাই হোক, আমাদের এখনো যা অভাব রয়েছে, তা হলো প্রোডাকশন পেশা অনুসরণ করতে ইচ্ছুক তরুণ প্রজন্মের জন্য ভালো শিক্ষক এবং নির্দেশিকা।

আপনি কি বর্তমানে কোনো চলচ্চিত্র নিয়ে কাজ করছেন?

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আগরতলা মামলা নিয়ে অমিতাভ রেজা চৌধুরীর ফিচার ফিল্ম ‘১৯৬৯’ নির্মিত হচ্ছে, এটা নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। পাশাপাশি, বিজ্ঞাপন ও তথ্যচিত্র বানাচ্ছি। জাতীয়ভাবে দেশে রিকশা গার্ল চলচ্চিত্রের মুক্তি পাইপলাইনে রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত