সিরাজগঞ্জে ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষে শহর রণক্ষেত্র

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৪, ০৯:৩৩ পিএম

সিরাজগঞ্জ শহরের ইসলামিয়া কলেজ ও রেলগেট এলাকায় মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে কোটা আন্দোলনকারী ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ ব্যাপক রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় শহরের বিভিন্ন সড়ক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সংঘর্ষে  ৫ পুলিশসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকে ছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়েছে। সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার রেলগেট এলাকার সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ আটজনকে আটক করেছে। আটকদের নাম জানা যায়নি।

আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ জিসান (১৯) ও সিয়ামকেকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি নাবিল, সৈকত নয়ন ও ইমনকে শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত পুলিশেরা হলেন, সিরাজগঞ্জ ২ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক এসএম কামাল, সিরাজগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক সৌমিক হাসান, সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজওয়ানুল ইসলাম, ডিএসবির উপ-পরিদর্শক শফিকুল ইসলামসহ পাঁচজন।

জানা গেছে, এসবি ফজলুল হক রোড, ইসলামিয়া কলেজ রোড, স্টেডিয়াম রোড ও সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল রোড পর্যন্ত সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এরপরের শহরে বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে সংঘর্ষ হয়।

আন্দোলনকারী সৈকত ও নাবিল জানায়, আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রেলগেট এলাকায় পৌঁছলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ছাত্রদের ওপর টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। এতে বেশ কয়েকজন ছাত্র আহত হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আন্দোলনকারীরা পুলিশের ওপর হামলা করে। ফলে ঘটনাস্থল থেকে আটজনকে আটক করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজওয়ানুল ইসলাম জানান, কোটা আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে রেলগেট এলাকায় পৌঁছলে তাদের মধ্যেকার বহিরাগতরা পরিকল্পিতভাবে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ তখন তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এ সময় তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ ঘটনার পর থেকে এখনও শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

এ ছাড়া শাহজাদপুরের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস-১ এ কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে রাস্তায় বের হলে ছাত্রলীগের ছেলেরা হামলা চালিয়ে জাহিদ মামের এক ছাত্রকে আহত করেছে।

অপরদিকে সিরাজগঞ্জের শহীদ এম. এমসুর আলী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা এদিন বিকেল ৩টার দিকে ক্যাম্পাসে কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত