গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা কলেজ, সায়েন্সল্যাব এলাকায় কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত দুজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুর ২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে মৃতদেহ দুটির ময়নাতদন্ত করেন ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মমতাজ আরা। এরপর লাশ দুটি স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামাল উদ্দিন মুন্সী নিহত শাহজাহানের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, শাহজাহানের ডান চোখের নিচে ছিদ্র, মাথার পেছনে ফোলা এবং নাকে যখম রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের জায়গায় তিনি উল্লেখ করেন, বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে নিউমার্কেট থানাধীন অর্কিড প্লাজার সামনে কোটা আন্দোলনকারী অজ্ঞাত শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিতে দিতে এসে শাহজাহানকে সামনে পেয়ে তাকে ছাত্রলীগ ভেবে এলোপাতারি আঘাত করে। এতে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
আর নিহত সবুজের সুরতহাল করেন এসআই মো. মাহবুব আলী। তিনি উল্লেখ করেন, তার মাথার পেছনে থেতলানো, নাকে ও কানে রক্তমাখা। ডান হাতের কব্জিতে কাটা যখম রয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত তিনি উল্লেখ করেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা স্লোগান দিতে দিতে এসে ঢাকা কলেজের সামনে রাস্তায় সবুজকে মারধর করে এতে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
মঙ্গলবার রাত সোয়া ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগ মর্গে শাহজাহানের লাশ সনাক্ত করেন তার মা আয়শা বেগম। বুধবার দুপুরে মর্গে তিনি জানান, ছেলের লাশ প্রথমে কামরাঙ্গীরচরের বাসায় নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হবে। ছেলের মৃত্যুর জন্য কোনো মামলা করতে রাজি নন তিনি। চাননা বিচারও।
অপরদিকে, নিহত সবুজ আলীর লাশ বুঝে নেন তার বড় ভাই মো. নুরনবী। তিনি জানান, ঢাকা কলেজ কর্তৃপক্ষ সবুজের লাশ প্রথমে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়ে যাবে। সেখানে জানাযা শেষে গ্রামের বাড়ি নীলফামারীর সদর উপজেলায় নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে দাফন হবে।
নিহতদের গায়েবানা জানাজা পড়বে আওয়ামী লীগ
তিন দফা দাবিতে রাবির প্রশাসন ভবন অবরোধ শিক্ষার্থীদের