পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের খেলায় চার প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই বছরেই ৮টা টেস্ট খেলতে হবে বাংলাদেশকে। শুরুটা পাকিস্তান সফর দিয়ে, এরপরের গন্তব্য ভারত। মাঝে দেশে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দেশের মাটিতে সিরিজ খেলে উড়াল দিতে হবে ক্যারিবিয়ানের উদ্দেশ্যে। লম্বা এই সফরে খেলোয়াড়দের দক্ষতা, শারিরীক সামর্থ্য সবকিছু ধরে রাখা এবং বিকল্প খেলোয়াড় তৈরি রাখার উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশ টাইগার্স কর্মসূচীর মাধ্যমে ক্রিকেটারদের মাঠে রেখেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এই কর্মসূচীর পেস বোলিং কোচ তারেক আজিজ খান দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, দেশজুড়ে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ৫ দিন বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার ফের শুরু হয়েছে অনুশীলন। সামনে আছে দুই দিনের এবং তিন দিনের ম্যাচ, যেখানে যোগ দেবেন জাতীয় দলের সম্ভাব্য ক্রিকেটাররাও।
বাংলাদেশ সবশেষ টেস্ট ম্যাচ খেলেছিল মার্চে। এরপর ব্যস্ত হয়ে পড়ে টি-টোয়েন্টির ডামাডোলে। পাকিস্তান সফরের আগে ঘরোয়া ক্রিকেটেও নেই বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচ। ফলে দীর্ঘ একটা বিরতিই পড়বে আগস্টে পাকিস্তান সফরের আগে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এই বিরতির সময়টাতেই টি-টোয়েন্টি দলের বাইরে থাকা এবং জাতীয় দলের আশেপাশের ক্রিকেটারদের নিয়ে চলেছে বাংলাদেশ টাইগার্স এর ক্যাম্প, স্কিল এবং ফিটনেস ট্রেনিং শেষে অনুশীলনের তৃতীয় ধাপে এসে যখন ক্রিকেটাররা ম্যাচ অনুশীলনে ব্যস্ত তখনি ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়েছে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে। চট্টগ্রাম থেকে তারেক আজিজ দেশ রূপান্তরকে জানান, 'আজকে (মঙ্গলবার) আমরা অনেকদিন পর অনুশীলন করেছি, আমাদের অনুশীলনের সুযোগ সুবিধা ভাল। আমরা সেরা সব সুযোগ সুবিধাই পাচ্ছি। আমার জন্য দারুণ একটা অভিজ্ঞতা কারণ আমি সব প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করছি, যেমন নাহিদ রানা, খালেদ (আহমেদ), এবাদত (হোসেন), রনি ( আবু হায়দার), রাজা (রেজাউর রহমান) ছিল এখানে। একঝাঁক পেসারকে পেয়েছি'। জাতীয় দলের সাবেক এই পেসার আরও জানালেন চোট, অস্ত্রপচার সব কিছুর পর ফের মাঠে ফিরেছেন পেসার এবাদত, ' সে ফিরেছে, সে এখানেই টাইগার্স দলের সঙ্গে আছে, রিহ্যাব করছে।'
এই বছরের বাকি সময়টায় বাংলাদেশ বেশি খেলবে টেস্ট ম্যাচ, অল্প কিছু ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি আছে সূচীতে। তারেক জানালেন, মনোযোগ দিচ্ছেন টেস্টে বোলারদের দক্ষতা বৃদ্ধির দিকেই, 'একটা প্যাটার্ন আমরা দাঁড় করিয়েছি। টেস্ট ম্যাচের জন্য যেভাবে প্রস্তুতি নেয়া দরকার আমি আসলে সেই প্রস্তুতি আর স্কিলের একটা সমন্বয় করার চেষ্টা করছি। যাতে করে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটে টিকে থাকতে হলে বা নিজের সেরাটা দিতে হলে বোলারদের নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া দরকার। আমরা স্কিলের টিউনিংয়ের যে অংশটা সেটা ঠিক করে দিচ্ছি। খালেদের একটা বিষয় নিয়ে কাজ করছি, নাহিদ রানার সঙ্গেও কাজ হচ্ছে। আমাদের পেস বোলারদের একটা বড় দূর্বলতা হচ্ছে বোলিং ফিটনেসের একটা অভাব থাকে। এটা দূর করতে কাজ হচ্ছে।'
প্রধান কাজ পেস বোলারদের নিয়ে। তবে পেসারদের ব্যাটসম্যানরা কেমন খেলছেন, সেটাও তো লক্ষ্য রাখতে হয় তারেককে কাজের তাগিদেই। ক্যাম্পে থাকা ব্যাটসম্যানদের নিয়ে তার পর্যবেক্ষণ, 'আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত খেলছে আর আর কেউ একটু দূরে আছে বা দলের বাইরে আছে, এই রকম দুই ব্যাটসম্যানের চিন্তাধারা আসলে দুই রকম। মুশফিক(উর রহিম) কি ভাবে প্রস্তুতি নেয় সেটা সবাই জানেন। মমিনুল টেস্টের জন্য নিজেকে তৈরি করছে লম্বা সময় ধরে ব্যাটিং করে।'
সবকিছু চলছিল ভালই। বাধ সাধল কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে দেশজুড়ে নাশকতা। যার ফলশ্রুতিতে নেমে এল কারফিউ। এতে করে দেশের অর্থনীতি, রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় দৃশ্যমান ক্ষতির মত অনেক অদৃশ্য ক্ষতিও হয়েছে, যে ধাক্কা লেগেছে ক্রিকেটেও। একটা ৫০ ওভারের ম্যাচ এবং একটা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে পারেননি ক্রিকেটাররা। ৫ দিন ছিলেন হোটেলবন্দী। থেমে যাওয়াতে ক্ষতি হল কি না এমন প্রশ্নে তারেকের উত্তর, 'কিছুটা ক্ষতি তো হয়েছে ম্যাচ প্রস্তুতির বেলায়। আমরা তো ধাপে ধাপে ক্যাম্পটা চালাচ্ছি, এখন তৃতীয় ধাপে ছিলাম অর্থাৎ সব অনুশীলন এবং ফিটনেস ট্রেনিংয়ের পর ম্যাচ খেলার পারদর্শীতা যাচাইয়ের জায়গায় এসেছিলাম, যেটা খানিকটা ব্যাহত হয়েছে।'
সামনে আরো বেশ কিছু ম্যাচ খেলার সুযোগ আছে বলে খুব বেশি হতাশ নন তারেক, 'সাদা বলে ম্যাচ খেলার পর এখন সামনে আমরা লাল বলে খেলব। বাংলাদেশ টাইগার্স এবং জাতীয় দলে থাকতে পারে এমন সম্ভাব্য ক্রিকেটারদের নিয়ে দুটো ম্যাচ হবে। ২৫-২৬ জুলাই হবে দুই দিনের ম্যাচ, এটায় টাইগার্স ক্যাম্পের ক্রিকেটাররাই থাকবে। ২৯ তারিখ থেকে হবে ৩ দিনের ম্যাচ যেটাতে জাতীয় দলে থাকা ক্রিকেটাররাও যোগ দেবে বলে শুনেছি, আমি যতদূর জানি। এরপর পাকিস্তানে এ দলের সফর আছে। সেখানেও জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের কেউ কেউ থাকতে পারে। টেস্ট ম্যাচ খেলার আগে তাই এখনো বেশ কিছু সুযোগ আছে প্রস্তুতি নেয়ার।'
মঙ্গলবার বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস বিভাগের প্রধান জালাল ইউনুসও সাংবাদিকদের বলেছেন যে জাতীয় দলের কয়েকজন ক্রিকেটার যোগ দেবেন চট্টগ্রাম, এমনকি তাদের দেখা যেতে পারে 'এ' দলের হয়ে পাকিস্তান সফরেও। ভিসা জটিলতায় সহকারী কোচ নিক পোথাসের আসতে দেরি হতে পারে তবে চন্ডিকা হাথুরুসিংহে এসে পড়বেন চলতি মাসের শেষেই। সাদা পোষাকের ক্রিকেটের প্রস্তুতি পর্বে শেষ তুলির আঁচড়টা দেবেন এই শ্রীলঙ্কানই।
