কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় প্রায় ছয় দিন ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল দেশে। ঘটেছে নানা নাশকতার ঘটনা। দ্রুত দেশের সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাক এবং আবারও দেশ সচল হয়ে উঠুক এমনটাই চান দেশের সর্বাধিক দর্শকের তারকা মেহজাবীন চৌধুরী।
তিনি জানালেন, এই কয়েক দিন দেশে যে নাশকতামূলক ঘটনাগুলো ঘটেছে এবং ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেগুলো খুবই দুঃখজনক। তার মতে, যারা শ্রমজীবী মানুষ কিংবা যারা দিন আনে দিন খায় তাদের জন্য এই কয়েকটা দিন খুবই দুর্বিষহ ছিল। সারাক্ষণ একটা আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছিল। তাদের কথা ভেবে খুবই খারাপ লাগছে। শুধু শোবিজ অঙ্গনই নয়, পুরো দেশেরই অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে যেটা রিকভার করতে অনেকটা সময় লাগবে। বাসায় বসে টেলিভিশনে সারাক্ষণ খবর দেখছিলাম আর এসব ভাবছিলাম। যেই প্রাণগুলো আমরা হারালাম এটা খুবই দুঃখজনক। চাই, সবকিছু দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে উঠুক এবং এক-দুই সপ্তাহ আগে সবাই যেমন উৎফুল্ল ছিল আবারও সেই পরিবেশ বিরাজ করুক।
ইন্টারনেটবিহীন পাঁচ দিন কীভাবে কেটেছে জানতে চাইলে এই তারকা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যখন দেশে এই অস্থিরতা শুরু হয়েছে আমি তো তখন দেশের বাইরে ছিলাম। কোনো কিছু বুঝে উঠতে পারছিলাম না। এরপর ফ্লাইটে আসতে দুদিন লেগেছে। দেশে নামতে নামতে এবং কিছু বুঝে উঠার আগেই দেখি ইন্টারনেট সংযোগ চলে গেছে। এরপর তো ইন্টারনেটবিহীন সময় কেটেছে। সবসময় টেলিভিশনে খবরই দেখা হয়েছে। দেশের পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছিলাম এবং খবরাখবর দেখছিলাম। এর বাইরে নিজস্ব কিছু কাজ ছিল, সেগুলো শেষ করেছি। এভাবেই সময় কেটেছে। এ ছাড়া আলাদা তেমন কিছুই না।’
গেল মাসে ঈদের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র সফরে বেরিয়েছিলেন মেহজাবীন। প্রায় ২৩ দিন পর গত ১৮ জুলাই দেশে আসেন। এর মধ্যে দেশটির বিভিন্ন শহরে ঘুরে বেরিয়েছেন এবং পাশাপাশি অংশ নিয়েছিলেন ঢালিউড ফিল্ম অ্যান্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ড শোতে।
‘চিরকাল আজ’ খ্যাত এই অভিনেত্রী বিদেশ ভ্রমণ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ঢালিউড ফিল্ম অ্যান্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ড-এর তিনটি শোতেই অংশ নিয়েছিলাম। নিউ ইয়র্কের তিনটি জায়গাতে এটা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর বাইরে নিজেরও ব্যক্তিগত কিছু কাজ ছিল। এর আগেও বেশ কয়েকবার নিউ ইয়র্কে যাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে যেসব জায়গা বা দর্শনীয় স্থানগুলো দেখা হয়নি সেগুলো এবার ঘুরে দেখেছি। কেনাকাটা করেছি। দেশের বাইরে গেলে সবসময়ই কেনাকাটা করতে পছন্দ করি। সিনেমা হলে বসে সিনেমা দেখতেও পছন্দ করি। কিন্তু এবার সেটার সুযোগ হয়নি। এর আগে নিউ ইয়র্কের বাফেলো শহরে যাওয়া হয়নি আমার, এবার গেলাম। নায়াগ্রা ফলস দেখার একটা ড্রিম ছিল। এবার সেটাও পূরণ হলো। এবার ভ্রমণের মধ্যে এই মুহূর্তটাই সবচেয়ে স্মরণীয়।’
কাজে ফেরা প্রসঙ্গে তার ভাষ্য, ‘এই পরিস্থিতির কারণে তো সবকিছুই পিছিয়ে গেল। সেভাবে কারও সঙ্গে যোগাযোগও হয়নি। সবকিছু স্বাভাবিক হলে তারপরই কাজে ফিরব।’
‘সাবা’ এবং ‘প্রিয় মালতী’ সিনেমা দুটির মুক্তি নিয়ে মেহজাবীন চৌধুরী বলেন, দুটো সিনেমারই পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ চলছে। মুক্তির বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে ‘প্রিয় মালতী’ এই বছরের শেষ দিকে মুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে, অন্যটা হয়তো আগামী বছরে।
