মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মোস্তাকার হোসেন উকিল নামে এক ওমান প্রবাসীকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। গতকাল শুক্রবার (২৬ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের আধকানি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আগুনে দগ্ধ ওই প্রবাসীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী প্রবাসী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে মায়ের মৌরশী ও বাবার খরিদা জমিতে বাড়ি তৈরি করে বসবাস করছেন আবদুল বাছিতের ছেলে মোস্তাকার। সম্প্রতি তিনি প্রবাস থেকে দেশে ফিরেন। গত ৯ জুলাই পরিবারের নিরাপত্তার জন্য বাড়ির সীমানা প্রাচীর নির্মাণ শুরু করেন।
নির্মাণকাজ চলাকালে পাশ্ববর্তী বাড়ির মৃত আরিফ মিয়ার ছেলে মো. রাজু আহমদ কতিপয় লোক নিয়ে নির্মাণকাজে বাধা দেয়। এ সময় প্রবাসী মোস্তাকার কাজে বাধার বিষয়ে জানতে চাইলে রাজু জমিটি তার নিজের দাবি করেন। তখন জমিটি নিজের বলে দাবি করলে মোস্তাকারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করা হয়।
পরে মোস্তাকার তার স্ত্রীকে নিয়ে কমলগঞ্জ থানায় যাওয়ার জন্য মামাতো ভাই এএসএম কাইয়ুমের আদমপুর বাজারের দোকানে গেলে রাজু তার সঙ্গীদের নিয়ে হামলা চালায়। দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে মোস্তাকারকে মারধরের বিষয়টি ধরা পড়ে। এ অবস্থাতেই শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে মোস্তাকারের গ্যারেজ ও নির্মাণসামগ্রী রাখার ঘরে আগুন দেওয়া হয়।
আগুন দেখে মোস্তাকার বসতঘর থেকে বের হলে দুর্বৃত্তরা তাকে গ্যারেজে আটকে দরজা লাগিয়ে দেয়। এ সময় মোস্তাকারের পরিবারের সদস্যরা চিৎকার করলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে মোস্তাকারকে দরজা ভেঙে উদ্ধার করা হয়। পরনে লুঙ্গি থাকায় আগুনে প্রবাসী মোস্তাকারের শরীরের তলপেট থেকে পা পর্যন্ত এবং একটি হাতের কিছু অংশ পুড়ে যায়।
খবর পেয়ে কমলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ও কমলগঞ্জ থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই গ্যারেজের সকল মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পরে দগ্ধ প্রবাসীকে উদ্ধার করে প্রথমে কমলগঞ্জ উপজেলা সদর হাসপাতালে ও পরে মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন আহত মোস্তাকারের মামাতো ভাই এএসএম কাইয়ুম। এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, ‘ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।’
প্রেম নয়, রেখার সঙ্গে টাইমপাস করছিলেন সুপারস্টার!