শঙ্কায় প্রবাসী আয়

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৪, ১২:৪৩ এএম

শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলন কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে প্রবাসীদের মধ্যেও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘রেমিট্যান্স শাটডাউন’ প্রচারণা চালাচ্ছেন অনেক প্রবাসী। এ ছাড়া কারফিউ ও ইন্টারনেট বন্ধের প্রেক্ষাপটে চলতি জুলাইয়ে রেমিট্যান্সে পতনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি জুলাই মাসে ১৩ তারিখ পর্যন্ত প্রবাসী আয় এসেছিল ৯৭ কোটি ডলার। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, ২৪ তারিখ পর্যন্ত প্রবাসী আয় প্রায় ১৫০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলন কেন্দ্র করে দেশ জুড়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ন্ত্রণে ১৯ জুলাই শুক্রবার রাত থেকে কারফিউ জারি করে সরকার। এরপর মঙ্গলবার পর্যন্ত ব্যাংক বন্ধ ছিল। ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় ব্যাংকের অনলাইন লেনদেনও বন্ধ ছিল। কয়েক দিন লেনদেন বন্ধের পর ২৪ জুলাই ব্যাংক চালু হয়। ওইদিন লেনদেন চলে বেলা ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা। ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ১৯ থেকে ২৩ জুলাই বৈধপথে তথা ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে প্রবাস আয় আসাও সম্ভব ছিল না। এ সময়ের মধ্যে যারা বিদেশ থেকে প্রবাস আয় পাঠিয়েছেন, গত বুধবার ব্যাংক খোলার প্রথম দিনেই তা দেশের ব্যাংকে জমা হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু অনেকের সেটি হয়নি।

গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসার তথ্য রয়েছে। তবে এটা ফাইনাল তথ্য নয়। কমবেশি হতে পারে। ব্যাংক তো কয়েক দিন বন্ধ ছিল। ইন্টারনেটও বন্ধ ছিল। বুধ ও বৃহস্পতিবার সীমিত পরিসরে ব্যাংক চলেছে সময় কমিয়ে। এ সময় আসা রেমিট্যান্সের তথ্য রিকন্সিলিয়েশেন করা হয়নি। প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে, ব্যাংকিং সময় স্বাভাবিক হলে আগামী সোমবার রেমিট্যান্সের পরিপূর্ণ হালনাগাদ তথ্য জানা যাবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবাসীদের ‘রেমিট্যান্স শাটডাউন’ প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা আশা করছি রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়বে না।

দীর্ঘদিন দেশে ডলার-সংকট চলছে। এ সংকট কাটাতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুদ বাড়াতে প্রবাসী আয়সহ বিদেশ থেকে অর্থ আনতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় তদারকি কমিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো ধরনের অর্থ বৈধপথে দেশে আনার ক্ষেত্রে যে নিয়মকানুন রয়েছে, তা শিথিল করেছে। গত কয়েক মাসে যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল প্রবাস আয় দেশে আসার ক্ষেত্রে।

২০২০ সালে করোনা মহামারীর কারণে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেলে দেশে বৈধপথে প্রবাস আয় আসা বেড়ে যায়। তখন প্রতি মাসে প্রবাস আয়ের প্রবাহ গড়ে ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছিল। বিপুল পরিমাণ প্রবাস আয় আসার কারণে একপর্যায়ে বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। তবে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে পণ্য আমদানির খরচ বেড়ে যায়। দেখা দেয় ডলার সংকট। যে সংকট এখনো কাটেনি বলে ব্যাংকাররা মনে করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে ২ হাজার ১৬১ কোটি ডলারের প্রবাস আয় এসেছিল। আর গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রবাস আয় এসেছে ২ হাজার ৩৯১ কোটি ডলার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত