প্যারিস অলিম্পিক নানা দিক দিয়েই ব্যতিক্রম হতে যাচ্ছে। ইতিহাসে প্রথমবার অলিম্পিক স্টেডিয়ামের বাইরে নদীর বুকে হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এবার ফটোগ্রাফারদের ওপর কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে আয়োজকেরা। নারী অ্যাথলেটদের ছবি তোলার ক্ষেত্রে তাদের নজর রাখতে হবে, ছবির ফ্রেম যেন কোনোভাবেই যৌন আবেদনমূলক না হয়ে ওঠে।
আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) প্যারিস আসরকে নারী-পুরুষের সমাধিকার নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছে। অলিম্পিক ব্রডকাস্টিং সার্ভিসের প্রধান নির্বাহী ইয়ানিস এক্সারকোস বলেছেন, তার কোম্পানি এই গেমসে নারী-পুরুষের সমতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তার ভাষায়, ‘নারীরা একটু বেশি আকর্ষণীয় বলে অলিম্পিক খেলতে আসেনি, তারা নিজ নিজ খেলায় যোগ্যতা প্রমাণ করেই অলিম্পিকে সুযোগ পেয়েছে।’
ইয়ানিস আরও বলেছেন, ‘(নারী-পুরুষে সমান অংশগ্রহণ) আমরা যথেষ্ট মনে করি না। খেলাধুলার সার্বিক দিকগুলোতেও আমরা নারী এবং পুরুষের সমতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। ঐতিহ্যগতভাবেই বিভিন্ন ইভেন্টের সূচি তৈরির সময় পুরুষদের ইভেন্টগুলোতেই গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রায় সবসময়ই মেয়েদের ইভেন্টগুলো থাকে সকালে আর ছেলেদেরগুলো বিকেলে। এই আসরে আমরা চেষ্টা করেছি, সূচির ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব সমতা রাখার।’
অন্য গেমসগুলোর তুলেনায় প্যারিসে অংশগ্রহণকারী ক্রীড়াবিদদের মাঝে নারী ও পুরুষের সংখ্যা প্রায় কাছাকাছি। এই আসরে ৫ হাজার ৬৩০ জন পুরুষের বিপরীতে ৫ হাজার ৪১৬ জন নারী অ্যাথলেট অংশ নিয়েছেন। আইওসির কর্পোরেট এবং টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক পরিচালক ম্যারি স্যালোইস বলেছেন, ‘প্যারিস অলিম্পিক লিঙ্গ সমতার প্রথম গেমস হতে যাচ্ছে। এই বিশাল প্ল্যাটফর্ম বিশ্বজুড়ে লিঙ্গ সমতার বাণী ছড়িয়ে দেবে। এটাই আইওসি চেয়েছিল।’
মা হতে চাওয়া ‘বোকাসোকা’ মেয়েটিই অলিম্পিকে গড়লেন ইতিহাস