ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে চাকরি নিয়ে কারখানার তথ্য সংগ্রহ করত একটি আন্তঃজেলা ডাকাত দল চক্রের সদস্যরা। পরে দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে পরিকল্পনা করে টার্গেট করা কারখানায় দায়িত্বরত অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মীদের হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করত তারা। আশুলিয়ার বুড়িরবাজার এলাকার ডাক্তারবাড়িতে অভিযান চালিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা এই ডাকাত দলের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি ছুরি, খেলনা পিস্তল, প্লাস্টিকের হ্যান্ডকাপ ও সিকিউরিটি গার্ডের পোশাকসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। গতকাল রবিবার আশুলিয়া থানায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য জানান ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) আব্দুল্লাহিল কাফি।
তিনি বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে একটি চক্র শিল্পাঞ্চলগুলোতে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে আশুলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতির মামলা রয়েছে।’
গ্রেপ্তাররা হলেন জামালপুর সদর উপজেলার বড় গুজিয়াপাড়া এলাকার আবদুল বারেকের ছেলে মোজাম্মেল হক (৩০), দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কুলুমক্ষেত্র গ্রামের কালামের ছেলে রাশেদুল ইসলাম (২৬), একই জেলা-থানা এলাকার পুলিখাপুর গ্রামের আবদুল হালিমের ছেলে হামিদুল ইসলাম (৪০), মাগুরার মোহাম্মদপুর থানার জাঙ্গালিয়া মধ্যপাড়া এলাকার মৃত রুস্তম শেখের ছেলে লিটন শেখ (৩৯), একই এলাকার আলী আক্কাস মোল্লার ছেলে মনিরুল ইসলাম (৩৪), নারায়ণপুর গ্রামের আবির মোল্লার ছেলে আয়নাল হোসেন পলাশ (৩৬) ও আবদুল হাকিম বিশ্বাসের ছেলে ফরহাদ আলী বিশ্বাস (৩৮)।
আশুলিয়া থানার এসআই নোমান ছিদ্দিক জানান, গ্রেপ্তার ডাকাত দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। তারা সবাই ছোট-বড় পোশাক কারখানা, বাড়ি ও পণ্যবাহী ট্রাকে ডাকাতি করত বলে জানা গেছে।
