ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ এনে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। ভেনিজুয়েলায় সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র কর্মকর্তারা। ওই ব্রিফিংয়ে নির্বাচনে কারচুপি নিয়ে ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা তাদের অবস্থান ব্যক্ত করেন।
যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য কয়েকটি সরকার সরকার ভোট গণনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। মাদুরোর বিরোধী প্রতিদ্বন্দ্বী এডমুন্ডো গঞ্জালেজ নিশ্চিত করেছেন যে তিনিই প্রকৃত বিজয়ী। ভেনিজুয়েলার নির্বাচন কর্তৃপক্ষ তৃতীয়বার মাদুরোকে জয়ী ঘোষণা করে। এতে করে ক্ষমতাসীন সোশ্যালিস্ট এই পার্টির ক্ষমতাকে আরও দীর্ঘায়িত করা হলো।
এর আগে ভেনেজুয়েলার এই নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র। টোকিও থেকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন বলেছিলেন, আমরা ভেনেজুয়েলার এই নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক উদ্বিগ্ন। কারণ এই নির্বাচনে যে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে তাতে ভেনেজুয়েলার জনগণের ভোট বা ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি।
এদিকে নির্বাচনে বিতর্কিত ফলাফলের কারণে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ভেনেজুয়েলার সাধারণ জনগণ। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বিজয় দাবি করার পরদিনই ভেনিজুয়েলার রাজধানীতে বিক্ষোভ শুরু হয়। সোমবার সন্ধ্যায় হাজার হাজার মানুষ মধ্য কারাকাসে বিক্ষোভের জন্য জড়ো হন। এছাড়া শহরের চারপাশের পাহাড়ের বস্তি থেকে কয়েক মাইল হেঁটে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দিকে বিক্ষোভ করতে করতে এগিয়ে আসেন।
সাধারণ জনগণের বিক্ষোভ ঠেকাতে ভেনেজুয়েলার নিরাপত্তা বাহিনী জনতাকে লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশ ও জনতার মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সারা দেশে সাধারণ জনগণ প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর পোস্টার নামিয়ে ছিঁড়ে আগুনে জ্বালিয়ে দেয়। এ সময় বিক্ষোভ রুখতে মাদুরোর সরকারের প্রতি সহানুভূতিশীল সশস্ত্র পুলিশ, সামরিক এবং বামপন্থী আধাসামরিক বাহিনী বিক্ষোভকারীদের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এবং শহরের কেন্দ্রের চারপাশের অনেক রাস্তা বন্ধ করে দেয়।
ভেনেজুয়েলায় মাদুরোকে জয়ী ঘোষণা করায় পুলিশ-জনতার সংঘর্ষ