কোটা সংস্কার আন্দোলনে সক্রিয় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সরব থাকা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) একাধিক শিক্ষকের বাসার সামনে হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। এর প্রতিকার চেয়ে বুধবার (৩১ জুলাই) দুপুরে চবি উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেন ভুক্তভোগী শিক্ষকদের একজন দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
তার দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ‘মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে আমার বাসার সামনে আনুমানিক ১৬-১৭ জন তরুণ ৬-৭টি মোটর সাইকেল নিয়ে এসে আমার নাম ধরে উচ্চস্বরে গালাগাল করতে থাকে। তারা আনুমানিক ৭-৮ মিনিট অবস্থান করে। এ সময় তারা ৩টি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর তারা পশ্চিম দিকে চলে যায়। ওই সময় বাসার সামনে ডিউটিরত প্রহরীরা ও আশপাশের প্রতিবেশীরা এ অনাকাঙ্খিত ঘটনার সাক্ষী। বাসার সামনে ইলেক্ট্রিক পোলে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে আক্রমণকারীদের চিহ্নিত করা সম্ভব। এ ঘটনার পর ব্যক্তিগতভাবে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আশা করি এ ব্যাপারে আপনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’
এ বিষয়ে দর্শন বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি পুরো বিষয়টি উপাচার্য এবং প্রক্টরকে জানিয়েছি। আশা করি কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবে। তবে প্রক্টর আমাকে বললো, নেট সমস্যার কারণে সিসি ক্যামেরা ঠিকমতো কাজ করছে না। অথচ আমি খেয়াল করলাম আমার বাসার সামনের সিসি ক্যামেরাটা খুব স্বাভাবিকভাবেই চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গতরাতে হামলার পরপরই দেখলাম একটা পুলিশের গাড়িও সেদিক দিয়ে যাচ্ছে। পুলিশের তো দায়িত্ব ছিল এই বন্ধ ক্যাম্পাসে ৭-৮ টা বাইক নিয়ে এতরাতে ঘুরে বেড়ানো, বোমা ফোটানো এসব মানুষ কারা, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ ৩০ বছর আছি, কখনো এমনকিছু হতে দেখিনি।’
প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমানের বাসার সামনেও হামবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয় বলে জানিয়েছেন তিনি নিজেই। এই শিক্ষক বলেন, ‘রাত সোয়া ২টার দিকে ৭-৮টা মোটরসাইকেল নিয়ে পাহাড়িকা হাউজিং সোসাইটিতে আমার বাসার সামনে এসে তারা (মোটরসাইকেল আরোহীরা) দরজায় আঘাত করতে থাকে। এ সময় তারা আমার নাম ধরে চট্টগ্রামের ভাষায় গালাগালি করে এবং তিনটা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।’
এই শিক্ষক আরও বলেন, ‘সারাদেশে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় আমরা আজ মানববন্ধন করেছিলাম। এরপর উপাচার্যের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় আমরা সব শিক্ষকরা মিলে শিক্ষকদের বাসায় হামলার বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ব্যবস্থাগ্রহণের আশ্বাসও দিয়েছেন।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চবি প্রক্টর ড. ওহিদুল আলম বলেন, ‘হামলার বিষয়ে মোজাম্মেল স্যার একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি অনুসন্ধান করছি। পাশাপাশি পুলিশকে বলে দেওয়া হচ্ছে ক্যাম্পাসে কেউ ঘোরাফেরা করলে এখন থেকে যেন অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।’
