বাইলস প্রমাণ করলেন তিনিই ‘সর্বকালের সেরা’

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৪, ০৪:৫৫ পিএম

প্যারিস অলিম্পিকের জিমন্যাস্টিক্সের দলগত ইভেন্টে সোনা জিতে আগেই প্রত্যাবর্তন রাঙিয়েছিলেন সিমোন বাইলস। এবার প্রতিযোগিতায় ব্যক্তিগত ইভেন্টেও সোনা জিতলেন তিনি। নিজের দ্বিতীয় স্বর্ণপদক জয় করে বুঝিয়ে দিলেন তিনিই সেরা। যা ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত টুর্নামেন্টে তার নবম পদক জয়। যার মধ্যে সোনাই আছে ছয়টি। যে কারণে জিমন্যাস্টিক্সে বাকিদের থেকে কয়েক মাইল এগিয়ে বাইলস।

বাইলস আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিক্সে মেয়েদের অলরাউন্ড ইভেন্টে শুরু করেছিলেন ভল্ট দিয়ে। মেয়েদের ব্যক্তিগত এই ইভেন্টে আছে চারটি রাউন্ড, ভল্ট, আনইভেন বারস, ব্যালেন্স বিম এবং ফ্লোর এক্সারসাইজ।

বাইলস শুরু করেছিলেন ভল্ট দিয়ে। সেখানে তিনি মোট ১৫.৭৬৬ স্কোর করেন। আনইভেনে বারসে বাইলস স্কোর করেন ১৩.৭৩৩। ব্যালেন্স বিমে ১৪.৫৬৬ স্কোর করেন বাইলস। তিনটি রাউন্ড শেষে শীর্ষে ছিলেন তিনি। ফ্লোর এক্সারসাইজের পর সোনা নিশ্চিত করেন বাইলস।

শেষ রাউন্ডে বাইলসকে লড়াইয়ের মুখে ফেলে দিতে পারতেন আমেরিকার লি সুনিসা। তাকে সঙ্গে নিয়েই দলগত বিভাগে সোনা জিতেছিলেন বাইলস। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুনিসা শেষ করেন তিন নম্বরে। ব্রোঞ্জ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাকে। ফ্লোর এক্সারসাইজে ১৫.০৬৬ স্কোর করেন বাইলস। যা সবার থেকে বেশি। দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেন ব্রাজিলের রেবেকা আনদ্রাদে। তার থেকে বাইলস এগিয়ে ১.১৯৯ স্কোরে। তৃতীয় স্থানে থাকা সতীর্থ সুনিসার থেকে ২.৬৬৬ স্কোরে এগিয়ে শেষ করলেন তিনি।

আট বছর আগে রিয়ো অলিম্পিকে চারটি সোনা জিতেছিলেন বাইলস। সেই সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। দলের সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রতিযোগী ছিলেন তিনি। টোকিও অলিম্পিকে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বাইলস। তাতেও একটি রুপো ও দুটি ব্রোঞ্জ পেয়েছিলেন তিনি।

এবারের অলিম্পিকে বাইলস যেন নেমেছেন নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে। বুঝিয়ে দিতে, জিমন্যাস্টিক্সের দুনিয়ায় তিনিই সর্বকালের সেরা। সেই পথে বৃহস্পতিবার অনেকটাই এগিয়ে গেলেন বাইলস। তাই সোনা জয়ের পর নিজেই পরে নিলেন একটি নেকলেস। তাতে রয়েছে ছাগলের রূপাকৃতী লকেট। বুঝিয়ে দিলেন তিনিই ‘জিওএটি’— অর্থাৎ সর্বকালের সেরা।

যা গলায় জড়ানোর পর তিনি বলেছেন, ‘এটা ছোটো তবে অনেক সুন্দর। বহু মানুষ এটা পছন্দ করে। তারা সবসময় আমাকে জিওএটি বলে ডাকে। তাই আমি ভেবেছিলাম এমন কিছু যদি করতে পারি যেন এটা গলায় জড়াতে পারি। তাই এটা তৈরি করেছিলাম।’

বাইলস শুধু এক জন জিমন্যাস্ট নন, তিনি আমেরিকার জিমন্যাস্টিক্সের পালাবদলের অন্যতম কান্ডারি। বাইলস লড়াই করেছেন আমেরিকার জিমন্যাস্টিক্সে বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধেও। বিচারকেরাও গায়ের রং দেখে নম্বরের হেরফের করতেন। সেই মানসিকতা বদলে দিয়েছেন বাইলস। বুঝিয়ে দিয়েছেন, ম্যাটে নামার পরে খেলাটাই আসল। এখন আমেরিকায় মহিলাদের জিমন্যাস্টিক্সে কৃষ্ণাঙ্গ মেয়েরা উঠে আসছে। বাইলসকে দেখে স্বপ্ন দেখছেন তারাও।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত