সহিংসতায় ৩২ শিশু নিহত, ইউনিসেফের গভীর উদ্বেগ 

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৪, ০৯:৫৮ পিএম

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় অন্তত ৩২ শিশু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। শিশু নিহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। শুক্রবার (২ আগস্ট) সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রধান সঞ্জয় উইজেসেকেরা এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শিশু ও তরুণরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ; তারা যখন কোনো কিছু নিয়ে সোচ্চার হন, তখন তাদের সুরক্ষা দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

বিবৃতিতে সঞ্জয় উইজেসেকেরা বলেন, জুলাই মাসে বিক্ষোভে অন্তত ৩২ শিশু নিহত এবং আরও অনেক আহত ও আটক করা হয়েছে। শিশুদের এই মৃত্যু ভয়ানক ক্ষতি। সব ধরনের সহিংসতার নিন্দা জানায় ইউনিসেফ।

শিশুদের সর্বদা রক্ষা করতে হবে, সেটা সবার দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এক সপ্তাহ থেকে ফিরে এসেছি এবং সাম্প্রতিক সহিংসতা ও শিশুদের ওপর চলমান অস্থিরতার প্রভাব নিয়ে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’

সঞ্জয় উইজেসেকেরা বলেন, ‘যে শিশুদের আটক করা হচ্ছে এবং কর্তৃপক্ষকে মনে করিয়ে দিচ্ছি যে একটি শিশুর জন্য, আইনের সংস্পর্শে আসা বা সংঘাতে আসা খুবই ভীতিকর হতে পারে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন, বাংলাদেশের স্বাক্ষর করা জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ এবং আটক করা হলে শিশুদের ওপর যে প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে গবেষণার ভিত্তিতে ইউনিসেফ শিশুদের যেকোনো ধরনের আটক বন্ধের আহ্বান জানায়। এর অর্থ হলো কোনো স্থানে শিশুদের উপস্থিতি বা তাদের পূর্বের ইতিহাস, ধর্ম এবং তাদের পরিবারের কর্মকাণ্ড বা মতাদর্শের জন্য শিশুদের গ্রেপ্তার বা আটক করা যাবে না।’

সহিংসতায় আটকা পড়া শিশুদের সহায়তা, তাদের নিরাপদে রাখতে স্কুলগুলো খুলে দেওয়া, পড়াশোনা পুনরায় চালু এবং বন্ধুবান্ধব ও শিক্ষকদের সঙ্গে তাদের আবার মিলিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা সবচেয়ে ভালো উপায়গুলোর অন্যতম বলে উল্লেখ করেন উইজেসেকেরা।

তিনি বলেন, প্রাক্‌-প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের ৩ কোটি শিক্ষার্থী ১০ দিন স্কুলে যেতে পারেনি। চলতি বছরের শুরুতে তাপপ্রবাহ, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার কারণে শিক্ষার যে ক্ষতি হয়েছিল, তার সঙ্গে নতুন করে স্কুল বন্ধ হওয়ার ক্ষতি যুক্ত হয়েছে।  ৪ আগস্ট থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইউনিসেফ। তবে তখনো প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা শুরু করতে পারবে না।

যত দীর্ঘ সময় শিশুরা, বিশেষ করে কন্যাশিশুরা স্কুলের বাইরে থাকবে, ততই তাদের পড়াশোনায় ফেরার সম্ভাবনা কমবে। এতে তাদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে পড়বে বলে মনে করেন তিনি।

ইউনিসেফের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘সরকার, ইউনিসেফের অংশীদার এবং তরুণদের জন্য কাজ করা সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠকে আমি জোর দিয়েছিলাম যে জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ শিশুদের মেলামেশার স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতার অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত