আই চ্যুজ টু লিভ নট জাস্ট
এক্সিস্টকথাটা অনেক ক্ষেত্রে সবার জন্য প্রযোজ্য হয় না। কিন্তু এটিই যেন সমার্থক করে নিয়েছেন মেটালিকা ব্যান্ডের ভোকাল জেমস হেটফিল্ড। থ্রাশ মেটাল ভক্তদের কাছে খুবই জনপ্রিয় এই নাম। তার কণ্ঠে প্রাণ পেয়েছে ‘মাস্টার অব পাপেটস’, ‘নাথিং এলস ম্যাটারস’, ‘ফুয়েল’, ‘সুইসাইড অ্যান্ড রিডেম্পশন’, ‘টু লিভ ইজ টু ডাই, দ্য একস্ট্যাসি অব গোল্ড’, ‘আনফরগিভেন’-এর মতো গান।
জেমস হেটফিল্ডের ৬১তম জন্মদিন আজ। ১৯৬৩ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া শহরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক আছে জার্মান, আইরিশ এবং স্কটিশদের। মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্ম নেওয়া জেমস হেটফিল্ডের বাবা ভার্জিল ছিলেন একজন ট্রাক ড্রাইভার। আর মা সিনথিয়া ছিলেন অপেরা গায়িকা। ছেলের বয়স যখন ১৩ বছর তার বাবা-মার ডিভোর্স হয়। জেমস হেটফিল্ডের মা ক্যানসারে মারা যান।
মাত্র ৯ বছর বয়সেই সঙ্গীতে হাতেখড়ি জেমস হেটফিল্ডের। প্রথমে পিয়ানো ও পরে কৈশোরে তিনি গিটার বাজাতে শুরু করেন। এ সময় তিনি বেশ কিছু স্থানীয় ব্যান্ডের সঙ্গে পারর্ফম করেন। তবে কোনোটিতেই নিজেকে ঠিক প্রমাণ করতে পারছিলেন না। একদিন হঠাৎ করেই তার নজর পড়ে স্থানীয় একটি পত্রিকার বিজ্ঞাপনে। যেখানে ড্রামার লারস উলরিক একজন গিটারিস্ট চেয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। ওই বিজ্ঞাপনে হেটফিল্ড সাড়া দেন আর এরপরই তিনি যুক্ত হন মেটালিকার সঙ্গে। ছোটবেলায় জেমস হেটফিল্ডের প্রিয় ব্যান্ড ছিল অ্যারোস্মিথ। ব্যান্ডটির গান শুনেই গিটারের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। এদিকে জেমস হেটফিল্ড যুক্ত হওয়ার পর মেটালিকা কিছুটা ভাঙা-গড়ার মধ্য দিয়ে যায়। তবে অগ্রযাত্রা থামেনি তাদের। চার দশকের মেটালযাত্রায় জেমস হেটফিল্ড হয়ে ওঠেন কিংবদন্তি। ২০০৯ সালে ব্রিটিশ লেখক জয়েল ম্যাকআইভারের বইয়ে জেমস হেটফিল্ড বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ১০০ মেটাল গিটারিস্টের মধ্যে অষ্টম স্থানে ছিলেন। তিনি ৯ বার গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসও পেয়েছেন।
সঙ্গীতজীবনে খ্যাতির তকমা পেলেও ব্যক্তিগত জীবনে জেমস হেটফিল্ড বরাবরই সমালোচিত হয়েছেন। অতিরিক্ত অ্যালকোহল আসক্তির কারণে তাকে যেতে হয়েছে রিহ্যাবেও। দীর্ঘ দাম্পত্যজীবনও একসময় ভেঙে যায় তার। তবে এতকিছুর পরও থামেনি তার পথচলা। আজও তিনি শীর্ষেই রয়েছেন।
