রাস্তার উপর সাঁকো দিয়ে চলাচল, গ্রামবাসীর ভোগান্তি

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২০ এএম

দেখে মনে হতে পারে এটি কোন খাল বা নালা তাই বাঁশের সাঁকো দিয়ে মানুষ চলাচল করছে। কিন্তু আদতে তা নয়। এটি পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের   বানিয়ারী গ্রামের একটি রাস্তার চিত্র। এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির আরেক নাম এই রাস্তা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় বর্ষার কারনে রাস্তায় হাটু পর্যন্ত কাঁদা জমে আছে। আর মাঝখানে তৈরি হয়েছে নালা।   তাই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে না পেরে অনেকটা বাধ্য হয়েই স্থানীয়রা  রাস্তার উপর সাঁকো দিয়ে তার উপর দিয়ে চলাচল করছে। 

উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের বানিয়ারী গ্রামের অধিকাংশ রাস্তাই মাটির। এর মধ্যে  ৮ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ বানিয়ারী খান বাড়ী মসজিদ হতে ভিটাবাড়ী জাহিদুলের বাড়ি পর্যন্ত ১ কিঃমিঃ রাস্তা এবং ৯ নং ওয়ার্ডের ময়দানের পূর্ব পাশ হতে রেজ্জাক খানের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ২কিঃ মিঃ রাস্তা সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী।বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই রাস্তায় হাটুসম কাঁদা তৈরি হয়।

৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ কাইয়ুম ফকির জানান, "বর্ষাকাল আসলেই আমরা চরম বিপদে পড়ি। বিশেষ করে স্কুলের শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এছাড়াও এই এলাকায় অনেক ঘের আছে যেখানে নানা ধরনের সবজি চাষ হয়। ঘেরে উৎপাদিত সবজি পার্শ্ববর্তী দিঘীরজান বাজারে নিতে কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েন"। 

৮নং ওয়ার্ডের ইউ,পি সদস্য জুয়েল আহম্মেদ উজ্জ্বল বলেন, "দীর্ঘদিন আমাদের এলাকার এই কাঁচা রাস্তা নিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছি। অনেকবার উপজেলার নানান দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোন ফল পাইনি।  তবে স্থানীয়  বি এন পি নেতা সরদার সাফায়েত হোসেন শাহীন তার নিজস্ব উদ্যোগে প্রায় ৪০০ ফুট জায়গায় বালু ভরাট করে দিয়েছেন"। 

মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বিলু জানান, "বানিয়ারীর কাঁচা রাস্তা আমাদের আজীবনের ভোগান্তি। আমরা বিভিন্ন সময়ে রাস্তার উন্নয়নে বরাদ্দ চেয়েছি কিন্তু পাইনি"। তিনি রাস্তা সংস্কারে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। 

এ বিষয়ে নাজিরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ সালাহউদ্দিন আহম্মেদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই রাস্তার প্রকল্পের তালিকা মন্ত্রনালয়ে দেয়া আছে। বরাদ্দ আসলেই কাজ শুরু হবে।

উল্লেখ্য এই ৩ কিঃ মিঃ রাস্তা দিয়ে ২ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২ টি মাদ্রাসা ও ১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই ভোগান্তির আর শেষ থাকেনা। তাই দ্রুত এই রাস্তাটির সংস্কার চান স্থানীয় জনগন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত