ঢাকার সাভারে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিতে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন অর্ধশতাধিক। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার (৫ আগস্ট) দুপুরে সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন-আশুলিয়ার বাইপাইল মৎস্য আড়তের শ্রমিক রমজান (৩৫), মোজাহিদ (২৮) ও শ্রাবণ (২২)। তবে নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী মাছ ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, রমজান আড়তে লেবারের কাজ করতো। দুপুরে গোসল করে আড়ত থেকে বাসায় যাওয়ার পথে তার বুকে গুলি লেগেছে। প্রথমে তাকে স্থানীয় হাবিব ক্লিনিকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে এনাম মেডিকেলে নিয়ে যেতে বলে। এনাম মেডিকেলে আনার পর সেখানকার চিকিৎসকরা রমজানকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে সকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী ঢাকা আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে দুপুর ১টায় তারা মিছিল নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার জন্য রওনা হয়। দুপুর ২টায় তারা সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছলে পুলিশের বাঁধার মুখে পরে। এসময় সড়ক থেকে সড়াতে পুলিশ রাবার বুলেট, টিয়ারশেল ও ছররা গুলি করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেয় আমাদের ওপর গুলি ছুঁড়ে। এছাড়া সরকারি দলের নেতারা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে মিছিলে গুলি ছুঁড়েছে। এই মুহূর্তে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন শাখা সড়কে অবস্থান নিয়ে পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছে।
সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সাভার থানা রোডে হাজার হাজার আন্দোলনকারী জনতা অবস্থান নেয়। এসময় সামনে অগ্রসর হতে চাইলে পুলিশ টাওয়ারে অবস্থান পুলিশ গুলি চালালে কমপক্ষে ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হয়। থানা রোডের বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে সাধারণ মানুষসহ ছাত্রজনতাকে। থানা রোডের একটি জিম, হাসপাতাল, রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর ও আগুনে পুড়তে দেখা গেছে।
মাছরাঙা টেলিভিশনের সাভার প্রতিনিধি সৈয়দ হাসিব বলেন, ‘আমি বাসা থেকে বের হয়ে বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিলাম। রাস্তায় পুলিশ আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দিচ্ছিল। একজন পুলিশ আমাকে জিজ্ঞেস করলেন- ‘আপনি কোথায় যাচ্ছেন’। আমার হাতে মাইক্রোফোন এবং গলায় আইডি কার্ড দেখিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দেই। এ সময় সে গাড়িতে বসে থাকা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানায় আমি মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিক। পরিচয় জানার পরও ঊর্ধ্বতন ওই কর্মকর্তা গুলি করার নির্দেশ দেন। এরপরই আমার বুকে গুলি চালানো হয়।’
এদিকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডিউটি অফিসার ইউসুফ আলী ৩ জনের মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত করেছেন।
