প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর পরই জামালপুরে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আত্মগোপনে চলে গেছে। এদিকে দীর্ঘদিন মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে আত্মগোপনে থাকা বিএনপির নেতা-কর্মীরা জনসম্মুখে বেরিয়ে এসে বিজয়োল্লাস, মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করছেন। এদিকে মির্জা আজমের অগ্নিদগ্ধ বাড়ি দেখতে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা।
মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) সকাল থেকে পৌর শহরের বকুল তলা মোড়ে মির্জা আজমের অগ্নিদগ্ধ বাড়ি দেখতে উৎসুক জনতার ভিড় দেখা যায়।
অপরদিকে গতকাল বিকাল থেকেই শহরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের দেখা যায়। তারা দলীয় কার্যালয়, শহরের প্রধান প্রধান সড়কে বিজয়োল্লাস, মিছিল, সমাবেশ ও মিষ্টি বিতরণ করেন। নাশকতা, সহিংসতাসহ নানা রকমের মামলার বোঝা মাথায় আত্মগোপনে থাকা বিএনপির নেতা-কর্মীদের শহরে সরব উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। এদিকে গতকাল বিকালে থেকেই শহরে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের চোখে পড়েনি।
গতকাল জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেন শত শত বিক্ষুব্ধ মানুষ। পরে জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আজমের বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন তারা। এছাড়াও মির্জা আজম চত্বর, মির্জা আজম অডিটোরিয়াম ও আমলাপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি ও রিক্রিয়েশন ক্লাব ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধ জনতা।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের সংবাদ শোনার পরেই আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন বিক্ষুব্ধ জনতা। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের খবরের পরপরই আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা আত্মগোপনে যায়। এর আগে গত ৩ আগস্ট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিজন কুমার চন্দ দেশ ত্যাগ করেন। তিনি বিমানযোগে ভারতে গিয়েছেন। তবে তিনি চিকিৎসার জন্য গিয়েছেন বলেন জানা যায়। গতকাল সোমবার বিকাল থেকেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বাকি বিল্লাহ’র বাড়িতে হামলা করা হয়। অপরদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরীর বাড়িতে হামলা ও বেশ কয়েকটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন বিক্ষুব্ধ জনতা।
এছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সোহরাব হোসেন বাবুলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিজন কুমার চন্দের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন ছানুর ব্যক্তিগত অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পাটগুদামে অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। তবে নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলেও তাদেরকে দেখা যায়নি।
এদিকে সকাল থেকে পৌর শহরের বকুলতলা মোড়ে মির্জা আজমের অগ্নিদগ্ধ বাড়ি দেখতে উৎসুক জনতার ভিড় দেখা যায়। উৎসুক মানুষ মির্জা আজমের অগ্নিদগ্ধ বাড়িটি ঘুরে ঘুরে দেখেন। যে সকল সাধারণ মানুষ ওই বাড়িতে ঢুকতে পারিনি, তারও আজ অগ্নিদগ্ধ বাড়িটি দেখছে ও বিভিন্ন কথা বলে ক্ষোভ প্রশমন করছেন। অনেকেই বাড়িটি এতিমখানায় দিয়ে দেওয়ার কথাও বলছেন।
