সাধারণ জনগণের অনুরোধ সত্ত্বেও প্রাণের ভয়ে পালিয়ে গেছেন মানিকগঞ্জের শিবালয় থানার পুলিশ। মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) সুযোগ বুঝে পালিয়ে যান তারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দলনের মুখে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর গত দুদিনে মানিকগঞ্জের শিবালয় থানা, বরংগাইল হাইওয়ে থানা ও পাটুরিয়া নৌ-ফাঁড়ির ৫৯ জন পুলিশ সদস্য পালিয়েছেন। ফলে সর্বসাধারণ চরম নিরাপত্তার অভাব অনুভব করেছেন। এরপরও যারা শিবালয় থানায় দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তাদের আশ্বস্থ করেন স্থানীয়রা। তাদের নিরাপত্তার জন্য সোমবার রাতভর পাহারাও দেন তারা। কিন্তু পরদিন মঙ্গলবার ভোরে সুযোগ বুঝে পালিয়ে যান বাকী পুলিশ সদস্যরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও পালিয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় পুলিশ-জনতার সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে স্থানীয় শিক্ষার্থী রফিক (২৬) মারা যান। নিহতের ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ জনতা পাটুরিয়া পুলিশ বক্স, বিআইডব্লিউটিসি ফেরি টিকিট কাউন্টার, শিবালয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দোকান-বাড়ি, দলীয় আরিচা অফিস, টেপড়া অফিস, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের অফিস, শ্রমিক লীগের সভাপতির অফিস ভাঙচুর করে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু মুর্যাল ভাংচুরসহ বিভিন্ন অফিস-আদালত থেকে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি সরিয়ে ফেলেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, এ ঘটনার পর ওইদিন বিকালে শিবালয় থানার ওসিসহ বেশির ভাগ পুলিশ সদস্য পালিয়ে যান। পালাতে না পেরে থানার ভেতরে আটকা পড়েন আরও কয়েকজন। তবে স্থানীয়রা তাদের নিরাপত্তা দিবেন বলে আশ্বস্থ করে থানার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু পরেরদিন ভোরে সুযোগ বুঝে পালিয়ে যান তারা।
