সিনেমা মানুষের কথা বলে না কি কাল্পনিক? এটা নিয়ে আছে ভিন্ন মতামত। যদি ধরেন সিনেমা কাল্পনিক তাহলে প্রশ্ন আসে প্রেমের ভাষা কীভাবে সিনেমায় দেখানো সম্ভব? কারণ প্রেম যে কোনো সুর, তাল, জাত বিচার করে হয় না। তাহলে সারা বিশ্বে সিনেমায় এত প্রেমের গল্প কীভাবে হয়। আবার ধরেন মানুষের জীবন থেকে নেওয়া গল্প দিয়ে সিনেমা নির্মাণ হচ্ছে। তাহলে মানুষ কীভাবে উড়তে পারে? তা আবার বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। যা হোক, এই নিয়ে তর্ক চলে আসছে, আগামীতেও থাকবে। আজ জেনে নেওয়া যাক হলিউড সিনেমার
উদ্ভবের গল্প।
সিনেমার সৃষ্টিকাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ১০টা যুগে বিভক্ত। তার মধ্যে হলিউড সিনেমা নিয়ে যত বেশি আলোচনা হয়। বাকি ৯টি নিয়ে আলোচনা হয় না। তাই বলা যায় অন্যগুলো হলিউডের সামনে টিকে থাকতে পারেনি। তবু সেগুলো অবশ্যই ইতিহাসের অংশ তাই কখনো তা অগ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
১. নীরব চলচ্চিত্র যুগ (১৮৯০-১৯২০) : এই সময়টি থেকেই সিনেমার সূচনা হয়েছিল। সে যুগে উত্থান হয়েছিল জগৎ বিখ্যাত অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিনের। যার পোশাক এবং অভিনয় শৈলী যুগের শ্রেষ্ঠ অভিনেতা করেছিল। শুধু তা-ই নয় এখনো পর্যন্ত সবার শৈশবের প্রিয় অভিনেতা তিনি। এত দীর্ঘ সময় পরেও অমর অভিনেতা। তখনকার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে আছেন জর্জেস মেলিয়াস, ডি. ডব্লিউ. গ্রিফিথ প্রমুখ। চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘দ্য বার্থ অফ এ নেশন’ এবং ‘দ্য জেনারেল’।
২. ক্ল্যাসিক হলিউড সিনেমা (১৯৩০-১৯৫০) : সিনেমার ‘স্বর্ণযুগের’ বলা হয়ে থাকে। কারণ এই যুগেই স্টুডিও সিস্টেম এবং জনরা ফিল্মমেকিং শুরু হয়েছিল। (জনরা হলো, সিনেমার গল্পের ওপর নির্ভার করে নামকরণ করার পদ্ধতিকে বুঝায়। যেমন রোমান্টিক, অ্যাকশন, স্পাই আলাদা আলাদা জনরা)। সিনেমার গল্প চিত্রায়ণ করার জন্য স্টুডিওগুলোর উত্থান এবং সিনেমার বর্ণনামূলক প্রথার বিকাশ হয়েছিল। আইকনিক চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘গন উইথ দ্য উইন্ড’ এবং ‘ক্যাসাব্লাঙ্কা’।
৩. ফ্রেঞ্চ নিউ ওয়েভ (১৯৫০-১৯৬০) : অন্য সব যুগের তুলনায় ফ্রেঞ্চ নিউ ওয়েভের সময় প্রথাগত চলচ্চিত্র নির্মাণ থেকে দূরে সরে যায়। উদ্ভাবনী সিনেমা ফর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন সিনেমা নির্মাতারা। তখন থেকেই হলিউড সিনেমার সূচনা হয়েছিল বলে মনে করেন অনেকে। এরপর থেকেই শুরু এলিয়েন সিনেমার মতো গল্পের প্রচলন। আলোচিত পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন জিন-লুক গডার্ড এবং ফ্রাঁসোয়া ট্রুফোট, ‘ব্রেথলেস’ এবং ‘দ্য ৪০০ ব্লোস’-এর মতো চলচ্চিত্র।
৪. হলিউড (১৯৬০-১৯৭০) : হলিউড সিনেমার যুগের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় আমেরিকান চলচ্চিত্র নির্মাতাদের একটি নতুন প্রজন্মের। সে সময় বেশিরভাগ সিনেমা নির্মাণ হতো সামাজিক সচেতন করার লক্ষ্যে। তখকার শক্তিমান নির্মাতাদের মধ্যে ছিলেন মার্টিন স্কোরসেস, ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলা এবং স্টিভেন স্পিলবার্গের মতো পরিচালকরা। উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’ এবং ‘দ্য গডফাদার’। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ব্রিটেনে সিনেমা নির্মাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ঠিক তখনই হলিউড ইন্ডাস্ট্রি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এর মধ্যে সোভিয়েত এবং ইতালি যুগের কিছু তথ্য পাওয়া যায়। সোভিয়েত ইউনিয়ন সিনেমা নির্মাণের ক্ষেত্রে রঙ বিন্যাসের সূচনা করে। এবং ইতালি যুগের সিনেমাগুলো গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবন ভূমিকা তুলে চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হতো। সেই যুগ বেশিদিন দীর্ঘ হয়নি।
হলিউড সিনেমা উন্নতির মূল কারণগুলো কী?
১. উদ্ভাবনী গল্প : স্ক্রিপ্ট এবং গল্প বর্ণনার ক্ষেত্রে মৌলিকতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। দর্শক অনুপ্রাণিত ও আকর্ষক করে তা নিশ্চিত করা হয়।
২. প্রযুক্তিগত অগ্রগতি : সিনেমা নির্মাণের জন্য নতুন প্রযুক্তির বিকল্প নেই। সেক্ষেত্রে হলিউড ইন্ডাস্ট্রি কৌশলগুলোকে ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে। যেমন উন্নত ঈএও এবং অও।
৩. প্রতিভা বিকাশ : হলিউড সিনেমা বিকাশের জন্য নিয়মিত মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম, ওয়ার্কশপ এবং পরবর্তী প্রজন্মকে চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং অভিনেতাদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করে।
৪. দর্শকের চাহিদা : দর্শকদের পছন্দ এবং প্রবণতা বোঝার জন্য ডেটা বিশ্লেষণ করে। যার মাধ্যমে আরও আকর্ষণীয় বিষয়বস্তু নিয়ে সিনেমা তৈরি করতে সাহায্য করে।
৫. পরিমাণের চেয়ে গুণমান : সিনেমা সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে উচ্চমানের ফিল্ম তৈরিতে দৃষ্টিপাত করে। এর মধ্যে স্ক্রিপ্টের গুণমান, পরিচালকের দক্ষতা এবং প্রযোজনা খরচ সামগ্রিক সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর প্রতি মনোযোগ দেওয়া হয়।