কুলাউড়ায় এক রাতেই শেষ ৯ পরিবারের জীবিকার অবলম্বন

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী ১৩ নম্বর কর্মধা ইউনিয়নের নার্সারি খাসিয়া পুঞ্জিতে রাতের আঁধারে হামলা চালিয়ে ৯ পরিবারের পানজুমের ৮ হাজারের বেশি পানগাছ কেটে ফেলেছে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতের কোনো একসময় এ ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নার্সারি খাসিয়া পুঞ্জির বাসিন্দা লিকিন খংপ্ডা, পাইলা পতাম, নাসরিন পতাম, জনি পতাম, নিস্তার পাটুয়াট, শিউলি আজিম, টিউনি আজিম, ডিমান পতাম ও মাসার তংপের, এই ৯ পরিবারের জুম থেকে প্রায় ৮ হাজারের বেশি পানগাছ কেটে ফেলা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত জুমের মালিক নাসরিন পতাম বলেন, রাতের আঁধারে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তারা জানেন না। তার ভাষ্য, খাসিয়া সম্প্রদায়ের মানুষের জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস জুমের পানগাছ। সারাদিন জুমে কাজ করার সুযোগ থাকায় দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে গাছগুলো কেটে ফেলেছে। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।

নার্সারি পুঞ্জির মন্ত্রী (হেডম্যান বা পুঞ্জি প্রধান) জনি পতাম বলেন, খাসিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ অত্যন্ত নিরীহ এবং গভীর পাহাড়ি জনপদে পান চাষ করেই সংসার চালান। জুমে রোপণ করা একটি গাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত ফসল বা বিক্রির উপযোগী পান পেতে কমপক্ষে চার বছর যত্ন নিতে হয়। কিন্তু এক রাতের ঘটনায় তাদের চার বছরের পরিশ্রম ও খরচ শেষ হয়ে গেছে। এতে পুঞ্জির নয়টি পরিবারের জীবিকা নির্বাহের পথ ধ্বংস হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তারা বর্তমানে ভয়ের মধ্যে রয়েছেন। পানগাছই তাদের একমাত্র আয়ের উৎস। এরই মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরেজমিন তদন্তে লোকজন এসেছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দুষ্কৃতকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

কুবরাজ আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফ্লোরা বাবলী তালাং বলেন, নার্সারি খাসিয়া পুঞ্জির ৯ পরিবারের ৮ হাজারের বেশি পানগাছ কেটে ফেলা মানে খাসিয়া পরিবারগুলোকে পথে বসিয়ে দেওয়া। তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। খাসিয়া আদিবাসীদের জীবিকা কেন বারবার হামলার শিকার হবে, এ প্রশ্ন তুলে তিনি দুষ্কৃতকারীদের বিচার দাবি করেন।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত