বাবা ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার। নব্বই দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত ২১ টেস্টে ৬১ উইকেট এবং ৯৫ ওয়ানডেতে ১০০ উইকেট নিয়েছেন। সাবেক এই ফাস্ট বোলার উইনস্টন বেঞ্জামিনের ছেলে রাই বেঞ্জামিনও হতে চেয়েছিলেন ক্রিকেটার। ব্যাটিংটা ভালোই করতেন। কিন্তু হয়ে গেলেন ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের অ্যাথলেট। এই ইভেন্টেই এবার তিনি প্যারিস অলিম্পিকে জিতে নিলেন সোনা।
গতকাল শুক্রবার রাতে ছেলেদের ৪০০ মিটার হার্ডলস দৌড়ে সোনা জিতেছেন রাই। সেটাও তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নরওয়ের কারস্টেন ওয়ারহোমকে হারিয়ে। তার টাইমিং ছিল ৫৬.৪৬ সেকেন্ড। অন্যদিকে রূপাজয়ী ওয়ারহোমের ৪৭.০৬ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করেন। রাই এর আগে টোকিও অলিম্পিকে রূপা জিতেছিলেন। তাছাড়া ২০১৯ ও ২০২২ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে রূপা আর ২০২৩ সালে জিতেছিলেন ব্রোঞ্জ।
ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখা রাইকে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে আসতে রাজি করান তার হাইস্কুলের অ্যাথলেটিকস কোচ। অ্যান্টিগায় জন্ম নেওয়া রাই ঘটনাক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হয়ে যান। ২০০১ সালের ১১ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল। সেদিন নিউইয়র্ক থেকে অ্যান্টিগায় ফিরছিলেন রাই। হামলার ঘটনায় তাদের বিমান পুয়ের্তো রিকোয় জরুরি অবতরণ করে। এরপর সেখানে থেকে যান রাই। ২০১৯ সালে পান নাগরিকত্ব।
সোনার পদক জয়ের পর রাই এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘বিশ্বাসই হচ্ছে না যে শেষ পর্যন্ত আমি এটা করতে পেরেছি। একদম সঠিক সময়েই হলো। আমার পরিবার এখানে, বন্ধুরাও আছে। তাদের সামনে এটা করতে পারা আমার কাছে অনেক বড় ব্যাপার। এর পেছনে আমার মায়ের অবদান অনেক। জীবনের পদে পদে আমি মাকে পাশে পেয়েছি। মানুষের বিনোদনের জন্য দৌড়াই। এতে নিজের জীবনও ঝুঁকিতে ফেলছি না। এটা স্রেফ বিনোদন।’
আসিফ মাহমুদের কাছে দুর্নীতিমুক্ত ক্রীড়াঙ্গন চাইলেন সাইফউদ্দিন
প্রেমিকের পর প্রেমিকার অলিম্পিক সোনা জয়