সাইবার সিকিউরিটি আইন বাতিলের দাবি বেসিস'র

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৪, ০৬:১১ পিএম

দেশের সাইবার সিকিউরিটি আইনকে মতপ্রকাশ ও মানবাধিকারের জন্য হুমকি অভিহিত করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)।

শুক্রবার (৯ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বেসিস এ তথ্য জানিয়েছে। বেসিসের এক সাধারণ সভায় বেসিস পরিচালক এম আসিফ রহমান বিষয়টি উত্থাপন করেন। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বেসিস সর্বপ্রথম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করবে।

বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, এই আইন ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন (ডিএসএ) ২০১৮ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইন ২০০৬ এর ধারা ৫৭ এর দমনমূলক আচরণটিই অব্যাহত রেখেছে, যেটি দেশের সংবিধানের পরিপন্থী এবং একইসঙ্গে মানবাধিকারের ওপর চরম হুমকি।

এতে বলা হয়, সাইবার সিকিউরিটি আইন ২০২৩ আইনটি সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের লক্ষ্য করে ব্যবহার করা হয়েছে হরহামেশা, যদিও আইন প্রণয়নকারীরা বারবার এই আইন প্রণয়নের পক্ষে বিভিন্ন  যুক্তি প্রদর্শন করে এসেছে এতদিন। সাম্প্রতিক ঘটনা, যেমন কোটাব্যবস্থার সমালোচনার জন্য অসংখ্য ব্যক্তির গ্রেপ্তার এবং ব্যঙ্গাত্মক পোস্টের জন্য অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এই আইনের অপব্যবহারের উদাহরণ।

সাইবার সিকিউরিটি আইন নিয়ে বেসিস পরিচালক এম আসিফ রহমান বলেন, সাইবার সিকিউরিটি আইন ২০২৩ কিন্তু ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন এর বেশিরভাগ বিধানই বজায় রেখেছে। এই আইন কর্তৃপক্ষকে কোনো অনুমতি ছাড়াই ব্যক্তিদের অনুসন্ধান, গ্রেপ্তার এবং আটক করার অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রদান করেছে। এই আইন সরকারকে অনলাইন কন্টেন্টের ওপর নিয়ন্ত্রণের সুবিধা দেয় এবং ব্যক্তি বাক স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করে।

বেসিস সভাপতি রাসেল টি আহমেদ বলেন, আমার সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি এই আইনের অনেক অপব্যবহার হয়। সাইবার সিকিউরিটি আইন ২০২৩ বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, এবং ব্যক্তি নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ। ভিন্নমত দমনের অবসান ঘটাতে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানগুলির সাথে সঙ্গতি রাখতে এই আইন বাতিল করতে হবে।

বেসিস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সাইবার সিকিউরিটি আইন ২০২৩ বাতিল বা উল্লেখযোগ্যভাবে সংশোধন করার জন্য আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে এই আইনের আওতায় আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়ার এবং তাদের বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ প্রত্যাহারের উদাত্ত আহ্বান জানায়। একই সাথে সংবিধান পরিপন্থী এই আইনটি বাতিলের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত