আত্মগোপনে রামগতি-কমলনগরের ১৩ ইউপি চেয়ারম্যান

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৪, ০৬:২৬ পিএম

লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগরে পৌরসভা ও ১৭ ইউনিয়নের মধ্যে ১৩ চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র গা ডাকা দিয়ে আত্মগোপনে রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, উপজেলার রামগতি-কমলনগরে প্রতিটি চেয়ারম্যান ও মেয়র আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে কারচুপির মাধ্যমে নির্বাচিত হন। এর আগে, ৫ আগস্ট কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্র-জনতার তোপের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে গেলে এরা সবাই আত্মগোপনে গা ডাকা দেন। গত ৬ দিন কোনো ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে তাদের দেখা যায়নি।

স্থানীয়রা জানান, রামগতি-কমলনগরে ১৯টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যারা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে তাদের মধ্যে ১৭ জন নৌকা প্রতীকে বিনাভোটে নির্বাচিত হন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে দলের প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষ ও বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের হামলা-মামলায় জর্জরিত করেন। সরকারের লুটপাটে একক আধিপত্য বিস্তার করেন। যার কারণে সরকারের পদত্যাগে এরা নিজেদের রক্ষা করতে আত্মগোপনে গা ডাকা দেন।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, কমলনগরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও হাজির হাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নিজাম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক ও পাটোয়ারীর হাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম নুরুল আমিন রাজু, চর মার্টিন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান মো. ইউছুফ আলী মিঠু, সাহেবের হাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান মাষ্টার আবুল খায়ের।

এদিকে রামগতিতে জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ও মেয়র মেজবাহ্ উদ্দিন মেজু, চর রমিজ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও চেয়ারম্যান মুজাহিদুল ইসলাম দিদার, চর আব্দুল্লাহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মঞ্জু, আলেকজান্ডার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান শামীম আব্বাস সুমন, চর পোড়াগাছা আওয়ামী লীগ নেতা মো. নুরুল আমিন, বড়খেরী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও চর গাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তওহিদুল ইসলাম সুমন দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ ও চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত এসব জনপ্রতিনিধি গা ঢাকা দেওয়ায় পরিষদের কাজ বন্ধ হয়ে পড়ছে। এতে উভয় উপজেলায় প্রায় ২ লাখ মানুষ সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন।

বেশকিছু ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, চেয়ারম্যানদের অফিসে তালা ঝুলছে। অনেক সেবাপ্রত্যাশী গুরুত্বপূর্ণ নথিতে জনপ্রতিনিধির স্বাক্ষর নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। তাদের কেউ ওয়ারিশ সনদ আবার কেউ জন্ম সনদের জন্য এসেছিলেন। তবে চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় কেউ এসব নিতে পারছেন না।

চর রমিজ ইউনিয়নের সেবাপ্রত্যাশী কালাম মাঝি ওয়ারিস সনদ না পেয়ে ফিরে চলে যান। তিনি বলেন, নদীতে মাছ শিকারে না গিয়ে কাগজ ঠিক করতে এসে দেখি চেয়ারম্যান নাই। অফিসে যারা আছেন তারাও সঠিক কথা বলেন না। এদিকে জৈনক তছির, খাদিজা ও তোতামিয়াসহ অসংখ্য ভুক্তভোগী বলেন, পরিষদে চেয়ারম্যানকে গত দুই তিন এসে পাইনি; কাগজপত্র ঠিক না করতে না পেরে আমরা খুব অসুবিধায় রয়েছি।

চরমার্টিন ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্যানেল চেয়ারম্যান আবু মিয়া জানান, তার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউছুফ আলী মিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ায় পলাতক রয়েছেন। ওই ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ তাকে পালন করতে হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চেয়ারম্যান জানান, দেশের পরিস্থিতি অনুকূলে আসা পর্যন্ত পরিষদ স্বাভাবিকভাবে করা যাচ্ছে না। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরিষদের সেবা শুরু করবো। এছাড়াও আপাতত প্যানেল চেয়ারম্যান দিয়ে পরিষদের কাজ চালানো হবে।

এদিকে কমলনগরে চর লরেন্স ও চর কাদিরা চেয়ারম্যান না থাকায় উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ভোটের তারিখের ঘনিয়ে আসলে দেশের পরিস্থিতি মোকাবেলায় ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছৈয়দ মো. আমজাদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, যে সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা অনুপস্থিত রয়েছে। সেখানে প্যানেল চেয়ারম্যান দ্বারা সেবা দিতে কাজ করতে বিশেষভাবে বলা আছে।

কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুচিত্র রঞ্জন দাস দেশ রূপান্তরকে জানান, ইউনিয়ন পরিষদে আমাদের কোনো নির্দেশনা নেই। তবে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক হলে সকলে আসবেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত