নতুন সরকারের কাছে কী চান যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা? 

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৪, ০৮:৪২ এএম

টানা ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনা সরকারের শোচনীয় পতন হয় গত ৫ আগস্ট। ছাত্র জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা।

এরপর রাষ্ট্রপতির আদেশে নোবেলজয়ী ড. ইউনুসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন নতুন সরকার। দেশে নতুন সরকার গঠিত হলে স্বাভাবিকভাবেই সরকারের কাছে জনগণ ও বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের কিছু প্রত্যাশা বা চাওয়া পাওয়া থাকে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট নতুন সেই সরকারের কাছে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসীদের কী চাওয়া তা জানার চেষ্টা করেছে দেশ রূপান্তর।

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বসবাসরত অধিকাংশ প্রবাসী জানান, দেশে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিলো। একতরফা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিল। দেশে গণতন্ত্র বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। নতুন সরকারের কাছে প্রথম চাওয়াই হবে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা। একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়া। এতে যতটুকু সময় নেওয়া দরকার ততটুকু সময় তারা নিবেন অসুবিধা নেই। এছাড়া দেশের মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার দাবিও জানান তারা। এছাড়া বিমানবন্দরে প্রবাসীরা যাতে হয়রানির শিকার না হন সেই ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন প্রবাসীরা। 

এ বিষয়ে নাবিল আহমদ নামের এক প্রবাসী বলেন, ‘দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনাই হবে এই সরকারের একমাত্র লক্ষ্য। মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি বিগত ১৫ বছর। সেই অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। নতুন সরকার আশা করি সেই কাজগুলো খুব ভালো করে সম্পন্ন করবে।’

এবাদুর রহমান বলেন, ‘দূতাবাসের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। বিদেশের মাটিতে প্রবাসীরা যাতে দূতাবাসে তার ন্যায্য সুযোগ সুবিধা পায় সেই দিকটা নিশ্চিত করতে হবে। দেশের মানুষের নাগরিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। মানুষ যাতে সরকারি অফিসে গিয়ে হয়রানি হতে না হয় সেই দিকটাও খেয়াল রাখতে হবে।’

রাজনৈতিক এক্টিভিস্ট শওকত আলী বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। এখানে সকল নাগরিক যেন সমান অধিকার পায় সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে। মানুষ যেন স্বাধীনভাবে তার মতামত তুলে ধরতে পারে।’

এস এইচ তারেক খান বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমানের সেবার মান বাড়ানো উচিত। এছাড়া টিকেটেরও দামও সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা উচিত বলে আমি মনে করি। বিমানবন্দরে কর্মকর্তারা প্রবাসীদের সাথে যাচ্ছেতাই ব্যবহার করেন। এটা বন্ধ করতে হবে। প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন। তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করা উচিত।’

প্রথম আলোর লন্ডন প্রতিনিধি সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রবাসীদের দেশের কাছে চাওয়ার তেমন কিছু নেই। তারা দেশকে দেওয়ার জন্য প্রবাসে আসে। তবে তারা তাদের নাগরিক অধিকার চর্চার সুযোগ চায়। তারা চায় তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ। যেটা গত ৫৩ বছরে কোন সরকার দিতে পারেনি।’

লন্ডন থে‌কে প্রকাশিত ইং‌রে‌জি দৈনিক ডেইলী ড‌্যাজ‌লিং ড‌নের প্রতিষ্টাতা ও প্রকাশক মুন‌জের আহমদ চৌধুরী ব‌লেন, ‘আমরা শুধু ক্ষমতার মুখগু‌লির পরিবর্তন চাই না। অর্থবহ ইতিবাচক পরিবর্তনের ভি‌ত্তিপ্রস্থর হোক। দে‌শের শাষক, রাজনীতিবিদরা ভালো হ‌লে, দুর্নীতি কমা‌তে পার‌লে বাংলা‌দেশ মালয়ে‌শিয়া হ‌তে মাত্র ৫ বছর লাগবে।

প্রবাসীরা বলছেন, কম বিতর্কিত অপেক্ষাকৃত যোগ‌্য অনেক মানুষ ছি‌লেন উপ‌দেষ্ঠা প‌দে ঠাঁই পাবার ম‌তো। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা বিশ্বস্ততা‌কে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। সাংবাদিক নুরুল কবীর, প্রফেসার স‌লিমুল্লাহ খান, অধ‌্যাপক আলী রিয়াজের মতো জ্ঞানী ও গ্রহণযোগ্য  ব্যক্তিদের উপদেষ্টা করা যেত বলে মনে করেন তাঁরা।  

উপ‌দেষ্টা ও প্রধান উপ‌দেষ্ঠা য‌ার‌া হয়ে‌ছেন তারা নৈতিকভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে থাকার কারণে সামনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। তারা নতুন রাজ‌নৈ‌তিক দল গঠন‌ বা কাউকে সমর্থন দেবার প‌থে না হেঁটে দে‌শের জন‌্য কিছু ভাল কাজ ক‌রে যা‌বেন, এটাই মানু‌ষের প্রত‌্যাশা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত