পরিস্থিতি অন্য রকম তাই ঘুষ চাইলেন বেশি

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৪, ১১:১০ এএম

ঘুষের টাকাসহ সুনামগঞ্জ জেলা ওষুধ তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয়ের অফিস সহকারীকে আটক করেছে কোটা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট ) সুনামগঞ্জের ওষুধ তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয়ে ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে আটক করা হয়।

জানা যায়, বর্তমান পরিস্থিতি অন্য রকম দাবি করে ড্রাগ লাইসেন্স নিতে আসা কয়েক জনের কাছে ঘুষের টাকা বেশি লাগবে বলে জানায় অফিস সহকারী মো. ফাহিম মিয়া। তার কথা মতো বাড়তি টাকা নিয়ে আসেন লাইসেন্সপ্রত্যাশী এক ব্যক্তি। আসার সময় তিনি বিষয়টি কোটা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের কাছে জানিয়ে আসেন। সেই শিক্ষার্থীদের পরামর্শেই অফিস সহকারীকে ঘুষ প্রদানের সময় আটক করা হয়।

এ বিষয়ে এক ভুক্তভোগী আমিনুল ইসলাম বলেন,“সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে তার একটি ফার্মেসি আছে। সেই ফার্মেসির নিবন্ধনের জন্য কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। নিবন্ধনের জন্য কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের ঘুষ দিতে হয়। সে ঘুষের পরিমাণ আগে ছিল ২০ হাজার টাকা। তার প্রেক্ষিতে তিনি ১০ হাজার টাকা দেন। পরবর্তীতে নিবন্ধনের কাগজপত্র নেওয়ার জন্য মো. ফাহিম মিয়া সাথে যোগাযোগ করা হলে আরও ১৫ হাজার টাকা দাবি করে । আমিনুল ইসলাম সবশেষে ১০ হাজার টাকা দিতে রাজি হন।

তারপরও কাগজ দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট)  আরও ১০ হাজার টাকা নিয়ে কার্যালয়ে আসেন। তার আগেই শিক্ষার্থীদের কাছে বিষয়টি জানান আমিনুল ইসলাম। পরে ফাহিমকে ঘুষের টাকা দেওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ফাহিমকে হাতেনাতে আটক করে।

আটক মো. ফাহিম মিয়া নিজেকে অফিসের কেউ না বলে দাবি করেন। শিক্ষার্থীদের জেরার মুখে বাধ্য হয়ে নিজের পরিচয় দেন। তত্ত্বাবধায়ক আবু জাফর ছুটিতে থাকার বিষয়টি জানায় সে।

 শিক্ষার্থীরা জানান, ফার্মেসির ড্রাগ লাইসেন্স দেওয়ার জন্য একটি কমিটি আছে। কমিটির সদস্য হিসেবে জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন কার্যালয়ে একজন কর্মকর্তাসহ সদস্যদের ঘুষের টাকা ভাগ দিতে হয়। ঘুষের টাকা বন্টনের তালিকা তাদের কাছে আছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক বলেন,“আমরা মো. ফাহিম মিয়াকে ঘুষের টাকাসহ আটক করেছি। জেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত