জীবিত না হলেও ছেলের মৃত মুখটা দেখতে চান মা

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৪, ১২:৫০ পিএম

বিজয় মিছিলে যোগ দিতে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। কিন্তু বিজয় মিছিল শেষে সবাই বাসায় ফিরলেও ফিরেনি কলেজ শিক্ষার্থী হৃদয়। ছেলের ফেরার অপেক্ষায় আছেন মা। জীবিত ছেলেকে দেখতে না পেলেও যেন অন্তত লাশটা দেখতে পারেন সে আকুতি জানান হৃদয়ের মা। 

৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করার পর বিজয় মিছিলে অংশ নিতে গাজীপুরের কোনাবাড়ীর বাসা থেকে বের হয় টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার আলমনগর ইউনিয়নের আলমনগর মধ্যপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক লাল মিয়ার ছেলে হৃদয়। সে মিছিলে পুলিশের গুলিতে হৃদয় নিহত হয়েছে বলে দাবি করছে পরিবার। এদিকে ১০ দিন পার হলেও হৃদয়ের মরদেহের সন্ধান পায়নি পরিবার ও স্বজনরা।

পরিবারের সদস্যরা জানায়, হৃদয় গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। হৃদয়ের বাবা ভ্যান চালাতেন। কিন্ত গত কয়েক মাস ধরে অসুস্থ থাকায় আর ভ্যান চালাতে পারতেন না। এসময় সংসারের দায়িত্ব নেন হৃদয়। জীবিকার সন্ধানে গাজীপুরের কোনাবাড়ী যান হৃদয়। পড়াশোনার পাশাপাশি অটোরিকশা চালিয়ে নিজের ও পরিবারে খরচ চালাতো হৃদয়। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর বিকেলে কোনাবাড়ীর কাশেমপুর সড়কের মেট্রো থানার শরীফ মেডিকেলের সামনে আনন্দ মিছিল বের হয়। ওই মিছিলে যোগ দিয়েছিল হৃদয়। মিছিলে পুলিশ ছুড়লে একটি বাড়ির পাশে লুকিয়ে ছিল যায় হৃদয়। সেখান থেকে পুলিশ তাকে ধরে সড়কে নিয়ে যায় এবং মারধর করে। পরে হঠাৎ তাকে পুলিশ গুলি করে মেরে ফেলে। এরপর আর তার মরদেহ মর্গসহ বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও পায়নি স্বজনরা।

এদিকে একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা রেহানা বেগম। ছেলের জামা-কাপড় ও বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পাওয়া পুরস্কার হাতে নিয়ে কান্না আর বিলাপ করছেন। প্রতিবেশীরা সান্ত্বনা দিয়েও কান্না থামাতে পারছেন না। অন্যদিকে নিজের একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শুধু চোখের পানি ফেলে যাচ্ছেন বাবা।

হৃদয়ের মা রেহেনা বেগম বলেন, আপনারা আমার ছেলে মরদেহটাই এনে দেন। আমি আমার ছেলেকে জীবিত দেখতে না পারি অন্তত লাশের মুখটা তো দেখতে পারবো। আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই।”

হৃদয়ের বোন জিয়াসমিন আক্তার বলেন,”আমার ভাইয়ের আশা ছিল লেখাপড়া করে চাকরি করবে। বাবা-মায়ের মুখে খাবার তুলে দিবে। আমার ভাইয়ের সে স্বপ্ন আর পূরণ হলো না । আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে। আমি আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার চাই।”

সেদিনে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “৫ আগস্ট বিকেলের দিকে আমার ভাইয়ের সাথে সবশেষ ফোনে কথা হয়। ভাইকে নিরাপদে থেকে বাসায় ফিরে যাওয়ার কথা বলি। আমার স্বামী তার সাথে আছে বলে জানায় সে। কিছুক্ষণ পর আমার স্বামী ফোন করে জানায় আমার ভাই আর বেঁচে নেই। এসময় ভাইয়ের খোঁজ নিতে ফোনে ফোন দিলে অন্য একজন রিসিভ করেন। ওই লোক জানান তিনি ফোনটি কুড়িয়ে পেয়েছেন। পরে রাতের দিকে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমার ভাইয়ের মরদেহ খুঁজতে বের হই। কিন্তু তার মরদেহ আর পাওয়া যায়নি।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত