সুদানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় একটি গ্রামে আধাসামরিক বাহিনীর হামলায় অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) দেশটির সেনার রাজ্যের জলগিনি গ্রামে এ হামলা হয়। একটি মেডিকেল সূত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে এমনটি জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
জলগিনির মেডিকেল সেন্টারের একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ৫৫ জন মৃত ও কয়েক ডজন আহত অবস্থায় পেয়েছি এবং তাদের মধ্যে ২৫ জন শুক্রবার মারা গেছেন। এতে মৃতের সংখ্যা ৮০ জনে দাঁড়িয়েছে।
বেঁচে যাওয়া এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, আধাসামরিক বাহিনী প্রথমে স্থানীয় গ্রামবাসীদের প্রতিরোধের মুখোমুখি হয়। পরে পুরো বাহিনীতে সৈন্য সংখ্যা বৃদ্ধি করে আবার ফিরে এসেছিল।
‘বৃহস্পতিবার সকালে তিনটি সামরিক যান জলগিনিতে হামলা চালায়। বাসিন্দারা প্রতিরোধ করলে আধাসামরিক বাহিনী পিছু হটে, পরে কয়েক ডজন গাড়ি নিয়ে ফিরে আসে’, আহত ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জলগিনির এক বাসিন্দা এএফপিকে বলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি বলেন, তারা গুলি চালায়, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয় এবং অসংখ্য মানুষকে হত্যা করে। শুক্রবারও কিছু লাশ রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যস্থতাকারীদের আয়োজনে সুইজারল্যান্ডে যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরু হলেও সুদানের সেনাবাহিনী এতে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এর আগে সৌদি আরবের জেদ্দায় কয়েক দফা আলোচনা যুদ্ধ বন্ধে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে।
আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের নিয়মিত সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। জুন মাসে সেনার রাজ্যের রাজধানী সিনজা দখল করে।
জাতিসংঘের সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন জানিয়েছে, এরপর থেকে সেনারে লড়াইয়ে প্রায় ৭ লাখ ২৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তাদের অনেকেই যুদ্ধ থেকে পালিয়ে উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার দেশটির অন্যান্য অঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছিল। আরএসএফ রাজধানী খার্তুমের বেশিরভাগ অংশ, কেন্দ্রীয় রাজ্য আল-জাজিরা, পশ্চিমাঞ্চলীয় দারফুর অঞ্চল এবং দক্ষিণে কোরদোফানের বিশাল এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে।
কলকাতার নারী চিকিৎসককে ধর্ষণের প্রতিবাদে জাবিতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন