মেয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরদিন রাজকীয় ক্ষমা পেলেন বাবা

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৪, ০৮:২৭ পিএম

থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ধনকুবের থাকসিন সিনাওয়াত্রার মেয়ে পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করেছে দেশটির পার্লামেন্ট। ৩৭ বছর বয়সী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা হলেন দেশটির সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী। মেয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরদিনই রাজকীয় ক্ষমা পেয়েছেন বাবা সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা। 

প্যারোলে সাজা ভোগের মেয়াদ দুই সপ্তাহ কমিয়ে তার এই রাজকীয় ক্ষমা ঘোষণা করা হয়। শনিবার (১৭ আগস্ট) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছেন থাকসিনের আইনজীবী। তার আগের দিন দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন থাকসিনের মেয়ে।

থাকসিন ২০০১ সালে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন। কিন্তু ২০০৬ সালে একটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার দ্বিতীয় মেয়াদের কার্যকাল হঠাৎ শেষ হয়ে যায়। এরপর জেল এড়াতে স্বেচ্ছায় নির্বাচনে চলে যান। তবে গত বছরের আগস্টে নাটকীয়ভাবে দেশে ফিরে আসেন তিনি। এরপর স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে ছয় মাস হাসপাতালে বন্দি থাকেন থাকসিন। তবে গত ফেব্রুয়ারি মাসে তাকে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়।

দেশে ফেরার পর প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং স্বার্থের সংঘাতের দায়ে তাকে আট বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। তবে গত সেপ্টেম্বরে তার সাজা কমিয়ে এক বছর দেন রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন। চলতি মাসের শেষের দিকে তার সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

তবে থাকসিনের আইনজীবী উইন্যাট চার্টমনট্রি রয়টার্সকে বলেছেন, গত মাসে থাই রাজার জন্মদিন উপলক্ষে যেসব বন্দিকে রাজকীয় ক্ষমা দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে থাকসিন অন্যতম। রোববার (১৮ আগস্ট) থেকে এই আদেশ কার্যকর হবে।

এর আগে শুক্রবার (১৬ আগস্ট) থাইল্যান্ডের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন থাকসিনের মেয়ে পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা। এর আগে তার ফুফু ইংলাক সিনাওয়াত্রা থাইল্যান্ডের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে তার পক্ষে ৩১৯টি ভোট পড়েছে। আর বিপক্ষে ভোট পড়েছে ১৪৫টি। পেতংতার্ন হলেন গত দুই দশকে সিনাওয়াত্রা পরিবার থেকে প্রধানমন্ত্রী হতে যাওয়া চতুর্থ ব্যক্তি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত