নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় গুলিতে ড্রাইভার আবুল হোসেন মিজি নিহতের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, শামীম ওসমানসহ ৮০ জনের নামে মামলা হয়েছে। বুধবার (২১ আগস্ট) ফতুল্লা থানায় নিহতের মা সাহিদা বেগম বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
মামলায় বলা হয়, গত ১৯ জুলাই আবুল হোসেন মিজি কাজের উদ্দেশ্যে নারায়ণগঞ্জ থেকে অটোরিকশাযোগে সাইনবোর্ড আসেন। ছাত্র-জনতা রাস্তায় অবস্থান করায় তিনি অটো থেকে নেমে পড়েন। এ সময় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের নির্দেশে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা সাইনবোর্ডে জড়ো হয়ে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। তখন শামীম ওসমানের ভাতিজা আজমীর ওসমান তার হাতে থাকা অস্ত্র দিয়ে গুলি করলে আবুল হোসেন মিজির পেটে গুলিবিদ্ধ হয়। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিক মনির হোসেন, জুয়েল, আল আমিন, ইসলামসহ কয়েকজন মিলে তাকে উদ্ধার করে প্রোঅ্যাকটিভ মেডিকেলে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে আবুল হোসেন মিজি মারা যান।
এদিকে, জেলার রূপগঞ্জে গুলিবিদ্ধ হয়ে শিক্ষার্থী রোমানের মৃত্যুর ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী ও তার ছেলে গোলাম মর্তুজা পাপ্পাসহ ১০৫ জনকে আসামি করে আরও একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। বুধবার বিকালে নিহত রোমানের খালা রিনা বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলার বাদী এজাহারে বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের খবরে ছাত্র-জনতার আনন্দ মিছিল চলাকালে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা রূপগঞ্জের চনপাড়া এলাকার জনকল্যাণ স্কুলের সামনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা গুলিবর্ষণ করলে রোমান মিয়া আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পূর্বগ্রাম হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। নিহত রোমান মিয়া নব কিশোলয় হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
