বাড়ি ছেড়ে টানা দুবছর পরিবারসহ পালিয়ে ছিলেন বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ভাসানচর ইউনিয়নের মাঝেরচর গ্রামের করিম ফকির। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এলাকায় এসে সেনাবাহিনী ক্যাম্প ও কাজীরহাট থানায় নিরাপত্তা চান করিম। গত মঙ্গলবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় গ্রামে ফিরে ফের হামলার শিকার হয় ফকির পরিবার। ব্যাপক ভাঙচুর ও নারী-শিশুদের মারধর করে ওই পরিবারকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য শামিম খান ওরফে শাহ সুফির সহযোগীদের বিরুদ্ধে। যে কারণে আবারও গ্রাম ছাড়া হলেন পরিবারটি।
ঘটনার শিকার করিম ফকির ও তার স্ত্রী সালমা বেগম জানিয়েছেন, ভাসানচর ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য শামিম খান ওরফে শাহ সুফির সহযোগীরা হামলা করেছে। শতাধিক হামলাকারী ধারালো অস্ত্র হাতে বাড়িতে ঢুকে কয়েক দফা হামলা চালায়। পরে সালমা বেগমসহ বাড়ির অন্যদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
তারা জানান, দুই বছর পলাতক থাকার পর রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তারা বাড়িতে ফিরেন। তার আগে সেনাবাহিনী ক্যাম্প ও কাজীরহাট থানায় গিয়ে নিরাপত্তা চেয়েছিলেন। আইশৃঙ্খলা বাহিনীর আশ্বাসের প্রেক্ষিতেই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরেছিলেন। পুরো ঘটনার জন্য কাজীরহাট থানার ওসি শাহবুদ্দিনের রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করেছেন করিম ফকির ও তার স্ত্রী।
হামলার নেপথ্যে জানা গেছে, ভাসানচর লঞ্চঘাটের ইজারা নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২২ সালের ৭ জুলাই প্রতিপক্ষের হামলায় শাহ সুফির ডান হাত কেটে ফেলতে হয়। এ ঘটনার মামলায় ৯ আসামির ৪ জনই করিম ফকিরসহ তার ভাইয়েরা। এরপর শাহ সুফির অনুসারীদের হামলার মুখে করিম ফকিরের ৪ ভাই পরিবারসহ এলাকা ছাড়া হয়। ওই ঘটনার জেরে গত ১৭ জুন মন্টু ফকিরকে নির্মমভাবে কোপানো হয়। দুটি ঘটনাতেই পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাতের হামলা প্রসঙ্গে ইউপি সদস্য শাহ সুফি বলেন, করিম ফকিরের ভাইয়েরা তার হাত কেটে নিয়েছে। এর বিচার না হওয়া পর্যন্ত এলাকাবাসী তাদের গ্রামে ঢুকতে দেবে না।
এ বিষয়ে কাজিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতের ঘটনা সম্পর্কে তাদের কিছু জানা নেই। সরকার পতনের আগে ফকির পরিবার তার কাছে যোগাযোগ করেছিল। পরে নিরাপত্তার জন্য সেনাক্যাম্পে গিয়েছিল বলে তিনি শুনেছি।’
