কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও অস্বাভাবিক জোয়ারের ফলে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার দুই ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে বেড়িবাঁধের কয়েক স্থানে অন্তত দুই কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন ও সিসি ব্লকে ধস দেখা দিয়েছে। বাঁধের এমন পরিস্থিতিতে সাগর ও শঙ্খনদ তীরের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের রব্বান মাঝির বাড়ি ও নুরুল ইসলাম চেয়ারম্যানের ঘোনা এলাকায় অন্তত এক কিলোমিটার বাঁধের বেশিরভাগ অংশ ভেঙে শঙ্খনদে বিলীন হয়ে গেছে। অন্যদিকে রায়পুর ইউনিয়নের মধ্য গহিরা বাইগ্যার ঘাট ও পারকি সৈকত এলাকায়ও প্রায় এক কিলোমিটার বাঁধের বেশিরভাগ অংশ ভেঙে গেছে। এসব এলাকার ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ইতিপূর্বে হাজার হাজার জিও ব্যাগ ফেললেও কোনো কাজ হচ্ছে না। ঝড়ের প্রভাবে সাগর ও শঙ্খনদে প্রবল জলোচ্ছ্বাস হলে বাঁধের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন এ জনপদের বাসিন্দারা।
জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো.নুরুন্নবী জানান, এলাকার দুই স্থানে প্রবল জোয়ারের তোড়ে প্রায় এক কিলোমিটার বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে যেকোনো মুহূর্তে বেড়িবাঁধ ভেঙে আশপাশের এলাকা প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে এলাকার আমন চাষাবাদ ও মাছের ঘের ভেসে যেতে পারে। আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন এখানকার মানুষ।
রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ছালেহ আহমদ বলেন, গহিরা বাইগ্যার ঘাট এলাকার প্রায় ৪০০ মিটার বাঁধে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলেও ভাঙন ঠেকাতে পারছে না। এতে এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ,ঝুঁকিপূর্ণ এসব এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো কাজ করছে না। যেকোনো সময় ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের অংশ ভেঙে জুঁইদণ্ডী ও রায়পুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পাউবো সূত্র জানায়, আনোয়ারা উপকূলের ৫ দশমিক ১৭৫ কিলোমিটার স্থায়ী বেড়িবাঁধ রক্ষায় ৩৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত ২৮ মে তৎকালীন সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই বরাদ্দ অনুমোদন হয়। এর মধ্যে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে ২ দশমিক ৭৭৫ কিলোমিটার ও জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নে ২ দশমিক ৪০০ কিলোমিটার বাঁধ পুনরাকৃতিকরণ ও নদীর তীর সংরক্ষণ করা হবে। উপকূলের পানি ব্যবস্থাপনা ও ভাঙনরোধের এ প্রকল্পটির কাজ আগামী ২০২৭ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্পটি থাকছে নাকি বাতিল হচ্ছে; এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে শহীদ বলেন, ভাঙনের বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। তবে সরকার বদলের পর জরুরি ভিত্তিক কাজের কোনো নির্দেশনা আসেনি। এ পরিস্থিতিতে কোনো ঠিকাদার কাজ করতে আগ্রহী হচ্ছেন না। তারপরও কি পদক্ষেপ নেওয়া যায় তা চেষ্টা করছি।
বিশ্বকাপ সরে যাওয়ায় মেয়েদের ‘মন খারাপ’
দুই অতিরিক্ত আইজিপি ও ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসর
কন্ট্রোল রুম খুলেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড, কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল