উইকেট না পাওয়ার আক্ষেপ, আগলানোর স্বস্তি

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৪, ১২:৪৮ এএম

সারা দিনে ৮৪ ওভার খেলা হয়েছে, তাতে পতন হয়েছে মাত্র ২ উইকেটের। এতে করে বাংলাদেশ দলে যেমন আক্ষেপ আছে, তেমনি দিনের শেষ ১২ ওভার ব্যাট করে যে কোনো উইকেট না হারিয়ে অপরাজিত অবস্থায় দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফিরে এসেছেন তাতে স্বস্তিও আছে। রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তান-বাংলাদেশ দুই টেস্টের সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনের এই হচ্ছে সারসংক্ষেপ। ৬ উইকেটে ৪৪৮ রান করে ইনিংস ঘোষণা করেছে পাকিস্তান, জবাবে বাংলাদেশ দিনের খেলা শেষ করেছে বিনা উইকেটে ২৭ রানে।

আগের দিন বৃষ্টি, টসভাগ্যে জয়ী হয়ে আগে বোলিং; সব সুবিধাই দিয়েছিল বাংলাদেশের পেসারদের। যে সুবিধা কাজে লাগিয়ে ১৬ রানেই পাকিস্তানের ৩ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন শরিফুল ইসলাম-হাসান মাহমুদরা। কিন্তু খেলা যত গড়িয়েছে, বলের চমক যত কমেছে ততই নিষ্প্রভ হয়েছেন পেসাররা। আর দ্বিতীয় দিনে, অর্থাৎ বুধবারে তো উইকেটের জন্য মাথা কুটে মরেছেন বোলাররা। সবচেয়ে নিষ্প্রভ ছিলেন স্পিনাররা। পাকিস্তান কেন এই উইকেটে দলে বিশেষজ্ঞ স্পিনার নেয়নি সেটা বোঝা গেল সাকিব আল হাসান আর মেহেদী হাসান মিরাজের বোলিং দেখেই। মিরাজ ২১ ওভারে ১ মেডেন নিয়ে ৮০ রান দিয়ে নিয়েছেন সৌদ শাকিলের উইকেট। তবে এই শিকারে মিরাজের চেয়ে বেশি শাকিলের ভারসাম্য হারানোর সুযোগে কৃতিত্ব ত্বরিত স্টাম্পিং করা লিটন দাসের। প্রথম দিনে দুটো দারুণ ক্যাচ ধরেছিলেন লিটন, দ্বিতীয় দিনে তার হাতেই ২৪০ রানের জুটির ইতি। পঞ্চম উইকেটে শাকিল-রিজওয়ান মিলে জুড়েছেন ২৪০ রান। শাকিলের বিদায়ে জুটি ভাঙার পর আসেন আগা সালমান, তাকে ১৯ রানে ফেরান সাকিব। এরপর শাহিন শাহ আফ্রিদি এসে দ্রুত রান তোলেন, ২ ছয় আর ১ চারে ২৪ বলে করেন ২৯ রান। শেষ বিকেলে ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তান, তাতে মোহাম্মদ রিজওয়ান খানিকটা অখুশিই হতে পারেন শান মাসুদের প্রতি। টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরিটা হতে পারত প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি। রাওয়ালপিন্ডির পাটা উইকেটে বাংলাদেশের মতো নির্বিষ বোলিং, এমন সুযোগ আর কবে আসবে? বিপিএলে গত কয়েক মৌসুম ধরে খেলার সুবাদে এই বোলারদের নাড়িনক্ষত্র জানা আছে রিজওয়ানের। খেলেছেনও অনেকটা ওয়ানডে মেজাজেই। ২৩৯ বলে ১৭১*, ১১টা বাউন্ডারি আর তিনখানা ছক্কা। আরেকটু সময় পেলে হয়তো ডাবল সেঞ্চুরি করেই ফেলতেন রিজওয়ান, সেটা না হলেও টেস্টে তার সর্বোচ্চ ইনিংস হয়ে গেছে।

শাহিন-নাসিমরা মিলে বাংলাদেশের ভঙ্গুর টপ অর্ডারের কী বেহাল দশা করতে পারে সেই আশঙ্কা তো ছিলই। তাই শেষবেলায় বাংলাদেশকে ব্যাট করতে নামতে দেখার সঙ্গে সঙ্গে কল্পনায় দিনশেষে স্কোরবোর্ডে উইকেটের ঘরের সংখ্যাটা এক এর বেশি হবে ধরে নিয়েছিলেন অনেকেই। তাদের আস্থায় ফিরিয়েছেন জাকির হাসান আর সাদমান ইসলাম। নাসিম-শাহিন-খুররম শাহজাদ এই ত্রয়ীর এক ডজন ওভার কাটিয়ে দিয়েছেন কোনো বিপদ ছাড়াই। সাদমান ৩০ বলে ১২ রানে অপরাজিত, মেরেছেন দুটো বাউন্ডারি। জাকির ৪২ বলে ১১ রানে অপরাজিত, মেরেছেন একখানা বাউন্ডারি। ১২ ওভারে বাংলাদেশের রান বিনা উইকেটে ২৭, পিছিয়ে আছে ৪২১ রানে।

শেষবেলার এই ব্যাটিং দৃঢ়তা স্বস্তি জুগিয়েছে দলকে, দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে এসে জানিয়েছেন ব্যাটিং কোচ ডেভিড হেম্প। ‘দিনের খেলার শেষের আধঘণ্টা সময়টা তারা (জাকির ও সাদমান) যেভাবে সামাল দিয়েছে সেটা সত্যিই খুব সন্তুষ্টির। এই সময়টা খুব কঠিন, তাদের দিনের শেষ সময়ে ব্যাট করতে হয়েছে; লম্বা সময় ফিল্ডিং করার পর। আবহাওয়াও যথেষ্ট প্রতিকূলে ছিল। সবচেয়ে ইতিবাচক যে ব্যপারটা সেটা হচ্ছে তারা যেভাবে খেলেছে, তাদের ফুটওয়ার্ক এবং রান করার প্রচেষ্টা সবই ভালো ছিল। আমরা চাই তারা বড় রান করুক, সেই সঙ্গে সুশৃঙ্খল থাকুক এবং উইকেটে লম্বা সময় কাটাক।’ পাকিস্তানের ইনিংস ঘোষণার সিদ্ধান্তে অবাক হননি হেম্প, ‘ভালো সিদ্ধান্ত, আক্রমণাত্মক সিদ্ধান্ত। তারাও চেয়েছে খেলায় যেন ফল আসে। আমরা খুব একটা অবাক হইনি। ওরা দিনের শেষভাগে উইকেট নিতে চেয়েছে। আমরা সেটা হতে দিইনি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত