সতর্কতা ব্যবস্থায় পরিবর্তন জরুরি

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৪, ০৬:৪২ এএম

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির আগ থেকেই বিভিন্ন সতর্ক সংকেত দিয়ে উপকূলবাসীকে সতর্ক করা হয়। কিন্তু অতিবৃষ্টি কিংবা বন্যা নিয়ে আগাম কোনো সতর্কতা নেই। এমনকি বিশ্বের অনেক দেশে রেড ও অরেঞ্জ সিগন্যাল দিলেও আমাদের দেশে আবহাওয়া অধিদপ্তর শুধু দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস ও বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র শুধু নদীর পানি বৃদ্ধির সিগন্যাল দিয়ে থাকে ওয়েবসাইট ভিত্তিক। এসব সিগন্যাল জনমুখী না হওয়া পর্যন্ত সুফল আসবে না বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের দিল্লিতে বন্যায় অরেঞ্জ ও ত্রিপুরাকে রেড সিগন্যাল দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে দেশের বিশিষ্ট পানি বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. আইনুন নিশাত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের আবহাওয়া অধিদপ্তরের এমন কোনো পূর্বাভাস সিস্টেম নেই। নির্ধারিত সময়ের পূর্বে কোন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত ও কোন এলাকায় হালকা বৃষ্টিপাত হবে তা উল্লেখ করে রেড বা অরেঞ্জ কালার হিসেবে ঘোষণা দেওয়া।’ তিনি বলেন, শুধু আবহাওয়া অধিদপ্তর নয়। ভারত বাংলাদেশের যৌথ নদী কমিশনের আওতায় ভারত থেকে আসা কোন নদীগুলোতে পানি প্রবাহ বাড়ছে বা কমছে তা উল্লেখ করে রেড বা অরেঞ্জ কালারের জোন ভিত্তিক সিগন্যাল দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা দেওয়া হয় না। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড তাদের ওয়েবসাইটে নদীর প্রবেশমুখে সিগন্যাল দিলেও তা জনবান্ধব নয়।

পানিবিজ্ঞানী আইনুন নিশাতের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সাদেকুল আলম বলেন, বৃষ্টির পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে এমন সিগন্যাল দেওয়া এখনই সম্ভব নয়। বিশ্বের অনেক দেশে এমন সিগন্যালিং সিস্টেম থাকলেও আমাদের নেই। এজন্য আরও আধুনিক ইকুইপমেন্ট যুক্ত করতে হবে। এমন করা গেলে ঘূর্ণিঝড়ের সতর্ক সংকেতের মতো মানুষ উপকৃত হবে।

আবহাওয়াবিদদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড়ের সতর্ক সংকেতগুলো লঘুচাপ সৃষ্টির পর থেকেই মনিটরিং করা হয়। একই সঙ্গে লঘুচাপ, সুস্পষ্ট লঘুচাপ, নিম্নচাপ, গভীর নিম্নচাপ সৃষ্টির পর তা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি এবং উপকূলে আঘাত পর্যন্ত মনিটরিং করা হয়। এখন দেশের কোন অঞ্চলের বেশি বৃষ্টি এবং দেশের বাইরের কোন এলাকায় কেমন বৃষ্টি হবে এর একটি পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব। এ বিষয়ে কথা হয় সাউথ এশিয়ান মিটিওরোলোজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক ড. মোহন কুমার দাশের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বন্যা নিয়ে ত্রিপুরায় যখন রেড সিগন্যাল দেয় তখন দিল্লিতে থাকে অরেঞ্জ। আমাদের দেশেও এমন সিগন্যাল সিস্টেম চালু করতে হবে। আর এজন্য ভারত বাংলাদেশের তথ্যের আদান-প্রদান রয়েছে। এখন সময় এসেছে আধুনিক ও জনবান্ধব উপযোগী সিগন্যাল সিস্টেম চালু করার।’

তবে দেশের অভ্যন্তরে ও দেশের বাইরে থেকে আসা নদীগুলোর পানির আগাম তথ্য পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সর্দার উদয় রায়হান। তিনি বলেন, আমরা কিন্তু প্রায় তিন দিন আগেই জানতে পারি কোন নদীর পানি কী পরিমাণ বাড়তে পারে। সে হিসেবে কিন্তু আমরা নদীর নাম উল্লেখ করে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস দিয়ে থাকি। তবে এসব পূর্বাভাস জোন আকারে দেওয়া হয় না। কিন্তু আমরা চাইলে জোন আকারে দিয়ে তা জনবান্ধব আকারে প্রকাশ করতে পারি। এজন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সঙ্গে আমরা কাজ করছি।’

কিন্তু দেশের পূর্বাঞ্চলের আকস্মিক বন্যা সম্পর্কে কি পূর্বাভাস দিয়েছিলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারী বৃষ্টি হবে তা আমরা জানতাম। কিন্তু এই বৃষ্টি যে এত প্রবল হবে এবং সেই বৃষ্টির প্রভাবে এমন আকস্মিক বন্যা হবে তা বোধগম্য হয়নি। তবে নদীর পানি বাড়বে এমন পূর্বাভাস ছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত