ভারতীয় ঢলের পানি ও কয়েক দিনের অবিরাম বৃষ্টিতে ঘরছাড়া কুমিল্লাবাসী। ঠিক সেই মুহূর্তে গ্রামে গ্রামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় ‘এলাকায় ডাকাত ঢুকেছে’। ফলে বন্যার কষ্টের মধ্যেই নির্ঘুম রাত পার করতে হয় নাঙ্গলকোট উপজেলার মানুষকে। শুক্রবার রাতে একসঙ্গে প্রতিটি মসজিদের মাইকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে পুলিশ বলছে এখন পর্যন্ত কোনো ডাকাতি বা চুরির ঘটনা ঘটেনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নাঙ্গলকোটের ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় সাড়ে ৫ লাখ মানুষের বসবাস। তার মধ্যে পানিবন্দি অন্তত ২ লাখ মানুষ। বন্যায় এখানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩ লাখ মানুষ। এসব মানুষ তাদের বাড়ি থেকে কেবল জামাকাপড় নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে গেছে। মূল্যবান কিছুই তারা আনতে পারেননি। ঠিক সেই মুহূর্তে উপজেলার বাংগড্ডা, রায়কোট উত্তর ও দক্ষিণ, মৌকরা, ঢালুয়া, সাতবাড়িয়া, বক্সগঞ্জ ইউপিসহ প্রতিটি গ্রামে স্পিডবোটে করে গ্রামে ডাকাত ঢুকেছে বলে মসজিদের মাইকে বলা হয়। খবর পেয়ে চারদিকে মানুষ ছোটাছুটি করতে থাকে। এতে পুরো রাত তাদের নির্ঘুম কেটেছে।
এ বিষয়ে পেরিয়া ইউপির বড় সাঙ্গীশ্বর গ্রামের নুরুল আমিন বলেন, ঘরের তালা বন্ধ করে কিছু কাপড় নিয়ে পরিবারসহ আশ্রয়কেন্দ্রে যাই। শুক্রবার রাতে ফোন আসে স্পিডবোটে করে গ্রামে ডাকাত ঢুকেছে। ডাকাতরা আমার ঘরের তালা ভেঙে সব মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। আমি একেবারে সর্বস্বান্ত।
নাঙ্গলকোট থানার ওসি ফজলুল হক বলেন, বিভিন্ন জায়গায় চুরি-ডাকাতি হচ্ছে- এমন খবর পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তবে এখন পর্যন্ত কোথাও চুরি বা ডাকাতির সত্যতা পাওয়া যায়নি। সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা মাঠে আছেন। তারা সার্বক্ষণ মাঠে কাজ করছেন।
নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া আক্তার লাকি বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে উপজেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এ কার্যক্রম চলমান থাকবে। এ ছাড়া বিভিন্নস্থান থেকে খবর পাওয়া গেছে চুরি ও ডাকাতি হচ্ছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী মাঠে রয়েছে। চুরি ডাকাতির কোনো প্রমাণ মেলেনি। এ সময় সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানান তিনি।
৫০০ পেরোনোর অপেক্ষায় বাংলাদেশ
আনিসুল-সালমান-জিয়াউলের ফের ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ