‘আমার পরিবার তিন দিন ধরে আটকা পড়ে আছে। সেখানে আমার ভাই ও পরিবারের ১০ জন সদস্য আটকে আছেন। সঙ্গে আছে মাত্র এক লিটার পানি। তাদের তিন দিনেও উদ্ধার করতে পারিনি।’
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার শিকারপুর গ্রামের আলী আশ্রাফের ছেলে নাজমুল হোসেন এভাবেই তার পরিবারের আটকা পড়ার বর্ণনা দেন।
গতকাল শনিবার সকাল পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছেন জানিয়ে নাজমুল বলেছিলেন, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে তার ভাই মো. লিটন, বাবা-মাসহ ও পরিবারের ১০ সদস্য তাদের তিনতলা বাড়ির ছাদে রয়েছেন। ওই পর্যন্ত পানি ওঠেনি। তবে মোবাইল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
নাজমুল বলেন, ‘শিকারপুর যেখানে আমাদের বাড়ি সেখানে যোগাযোগব্যবস্থা একেবারেই নেই বললেই চলে।’
বুড়িচংয়ের বুড়বুড়ি এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে গোমতীর বাঁধ ধসে বন্যার পানি লোকালয়ে ঢুকতে শুরু করে। ওই সময় নাজমুল লোকজনকে উদ্ধার করতে করতে বাড়ি থেকে ছুটে আসেন। আর ফিরে যেতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘আমি মানুষকে উদ্ধার করছি। কিন্তু আমার পরিবারকে উদ্ধার করতে পারছি না। শিকারপুরের দিকে কোনো নৌকা বা স্পিডবোট যাচ্ছে না। সেদিকে স্রোত হওয়ায় যেতে সমস্যা হচ্ছে। আমি চেষ্টা করছি সেদিকে যেতে।’
বাঁধ ভেঙে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বুড়িচং উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষ। আকস্মিক বন্যায় আক্রান্ত এলাকার অনেক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারেনি। তাদের অনেকে অবস্থান নিয়েছে বাড়ির ছাদে। অনেকে গলাসমান পানির মধ্যে বাড়িতেই রয়ে গেছে। তারা বাড়ির মায়ায় পড়ে থাকলেও এখন নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে চায়। সেখানে নৌকা ও খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। গতকাল শনিবার বুড়িচং উপজেলার ভরাসার, ইছাপুরা ও খাড়াতাইয়ায়ও একই অবস্থা।
খাড়াতাইয়া গ্রামের বাসিন্দা রেহানা বেগম বলেন, একটা আশ্রয়কেন্দ্রে স্বজনদের নিয়ে রেখেছেন। তিনি জানান, গ্রামের অনেকে বিভিন্ন ভবনের ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের মধ্যে অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষ আছেন। তাদের উদ্ধার করতে নৌকা লাগবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লা-বুড়িচং সড়কে অনেক সহায়তা নিয়ে গেছেন। তবে যারা মাইক্রোবাস নিয়ে গেছেন, তাদের ফেরত আসতে হয়েছে। কারণ সড়কে বিভিন্ন স্থানে হাঁটুপানি। পানির তীব্র স্রোত। স্বাভাবিকভাবে হাঁটা যায় না। ট্রাক্টর ও পিকআপ ভ্যান নিয়ে মূল সড়কে গিয়ে ত্রাণ দেওয়া যাচ্ছে। যারা পিকআপ ভ্যানে নৌকা নিয়ে গেছেন, তারা গ্রামের ভেতর থেকে লোকজনকে উদ্ধার করতে পারছেন।
