‘যেকোনো মূল্যে আমার স্বপ্নকে বাঁচাতে হবে’

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৪, ০৪:২৯ পিএম

সংসার জীবন তেমন কিছু করতে পারিনি। ক্ষেত খামারে কাজ করে জীবন শেষ। শেষ সম্বল বলতে ৩টি গরু। লালন পালন করেছি এক বছর ধরে। সামনের কোরবানির ঈদে গরু হাটে বিক্রি করার আশায় স্বপ্ন বুনেছি। হঠাৎ করে গোমতী নদীর বাঁধ ভেঙে গ্রামে পানি ঢুকে আমার সব শেষ হয়ে গেছে। যেকোনো ভাবেই হোক এদের বাঁচাতে হবে। চোখ মুছতে মুছতে কথা গুলো বলছিলেন কৃষক মনু মিয়া। তিনি বুড়িচং উপজেলার আজ্ঞাপুর গ্রামের মৃত. আব্দুল আজিজের ছেলে।

তিনি আরও বলেন, গত দু'দিন ধরে পানিতে দাঁড়িয়ে আছে। পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে কেন্দ্রে পাঠিয়ে দিয়েছি। গরু মায়া আমি রয়ে গেলাম। আমরা গরিব মানুষ গরু লালন পালন করে চলতে হবে। না হয় খামু কি।’

বর্তমানে এদের কোথায় নিবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, জানি না কোথায় নেব। আপাতত উঁচু কোনো স্থানে নিয়ে রাখব। পরে গাড়ি দিয়ে নিরাপদ কোনো স্থানে নিয়ে যাবো।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বুড়িচং উপজেলার বন্যাকবলিত বেশির ভাগ মানুষ গবাদিপশু নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। নিজেদের আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাঁই মিললেও কোথায়ও ঠাঁই মিলছে না গৃহপালিত গরু-ছাগলের। অনেকেই শখের পশু নিয়ে ছুটছেন অজানা গন্তব্যে। সন্ধান করছেন নিরাপদ আশ্রয়ের। কেউ কেউ ট্রাক ভাড়া করে পশু নিয়ে ছুটছেন দূর গন্তব্যে স্বজনদের বাড়িতে।

উল্লেখ্য- বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাত ১২টা উপজেলার ষোলনল ইউপিরজ বুরবুড়িয়া এলাকার গোমতী নদীর বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকতে থাকে। গতকাল শনিবার (২৪ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত বুড়িচং উপজেলায় প্রায় অধিকাশ গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত