শ্যালিকা সহকারী জজ, সেই ক্ষমতায় এলাকায় বোনজামাই বাবুল (৩৫) ও স্বজনদের দাপটে অতিষ্ঠ হয়ে মানববন্ধন করেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের কসবা গ্রামের বিক্ষুব্ধ জনতা। তাদের বিরুদ্ধে জমি দখল, হামলা, ভাঙচুর, মিথ্যা মামলায় আসামি করে জেল হাজতে প্রেরণের অভিযোগ আনেন এলাকাবাসী।
রোববার ( ২৫ আগস্ট) দুপুরে কসবা জামে মসজিদের সামনের সড়কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেন এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘কসবা গ্রামের রুজদার আলীর মেয়ে মোছা. লাবনী খাতুন বিগত সরকারের আমলে সহকারী জজ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি বর্তমানে যশোর ঝিকরগাছা আদালতে কর্মরত রয়েছেন। তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিকট জনেরা কসবা গ্রামবাসীদের উপর অন্যায়, অবিচার ও নিপীড়ন চালাচ্ছে। এসব অপকর্মের নেতৃত্ব দেয় বোনজামাই একই গ্রামের বাসিন্দা মো. বাবুল হোসেন। তারা সহকারী জজের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।’
কসবা গ্রামের বাসিন্দা আবু জাফর বলেন, ‘তিনি লাবনীর স্বজনদের কাছ থেকে সাড়ে আট শতাংশ জমি কিনেছিলেন। তবে লাবনী জজ হওয়ার পরে ক্ষমতার দাপটে তা দখল করে নিয়েছে।’
কৃষক জামাত আলী বলেন, ‘১৫ বছর ধরে বাবুল ও তার সহযোগী শিলাইদহ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জামাল মসজিদের দায়িত্ব পালন করে লুটেপুটে খেয়েছে। শ্যালিকা লাবনী সহকারী জজ হওয়ার পর থেকেই বোনজামাই বাবুলকে কিছু বলতে গেলেই লাবনী বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে হয়রানি করেন। গ্রামবাসী জজ লাবনীর অত্যাচার থেকে মুক্তি চান ’
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী ডলি খাতুন জানান, ‘লাবনী জজ হওয়ার পর থেকেই বাবুল এলাকায় দাপট দেখিয়ে আসছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে মানুষকে নানামুখী হয়রানি করছে।’
অভিযোগ অস্বীকার করে যশোর ঝিকরগাছার সহকারী জজ মোছা. লাবনী আক্তার মুঠোফোনে দেশ রূপান্তরকে জানান, ‘তিনি বা তার স্বজনরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নয়। সামাজিক দ্বন্দ্বে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হচ্ছে।’
কুমারখালী থানার ওসি মো. আকিবুল ইসলাম জানান, ‘জজ ম্যাডাম গ্রামের বিভিন্ন সমস্যায় তাকে ফোন দিতেন। ১৭ আগস্ট ম্যাডামের মা বাদী হয়ে ১৫ জনের নামে মামলা করেছেন।’
'এই জয় দলের ১৫ জনের কঠোর পরিশ্রমের ফল'