বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সহিংসতায় অনেক ক্ষতি হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের। অধিকাংশ ট্রাফিক বক্স ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এতে বর্তমানে চরম অস্বস্তি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। ট্রাফিক বক্স না থাকায় দীর্ঘসময় দায়িত্ব পালনের মাঝে একটু বিশ্রম নিতে পারছেন না তারা। ওয়াসরুমে যাওয়ার মতো স্থান নেই। এ ছাড়া যানবাহনের চালকরাও এখন ট্রাফিক সিগন্যাল মানতে চান না। কেউ কেউ গায়ের জোরে উল্টো রাস্তা দিয়ে চলছেন। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে গেলে হামলার শিকার হতে হয় কি না এমন আতঙ্কেও থাকতে হচ্ছে তাদের। এতে নগরীতে যানজট মোকাবিলায় যেমন বেগ পেতে হচ্ছে, তেমনি যানজটে স্থবির হয়ে থাকছে নগরীর অনেক এলাকা।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মেরুল বাড্ডা ইউলুপ এলাকায় বেলা ১১টায় তীব্র যানজট দেখা যায়। প্রায় ৩০ মিনিট স্থির দাঁড়িয়ে থাকার পর গাড়ি চলা শুরু হলো। দুই মিনিট গাড়ি চলার পরে ফাঁকা রাস্তা। মানে সেখানে কোনো যানজট নয়, পাবলিক বাস সার্ভিসের সঙ্গে ব্যাটারিচলিত রিকশার মধ্যে বিবাদ লেগেছিল। তা ছাড়া মাঝা রাস্তা দিয়েই চলছে ব্যাটারিচলিত রিকশা। আবার পাবলিক বাস সার্ভিসগুলোও যেখানে-সেখানে থামিয়ে দিচ্ছে। সব মিলিয়ে যানজট।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ট্রাফিকের যে আইন রয়েছে, সেই আইন অনুযায়ী বর্তমানে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। কেউ কেউ গায়ের জোরে উল্টো রাস্তা দিয়ে চলছেন, অনেকেই মানছেন না ট্রাফিক সিগন্যাল। দিনের বেলায় চলছে ভারী যানবাহন। আবার রাস্তায় উঠে পড়ছে ব্যাটারিচলিত অটোরিকশা। এসবের কারণেই শহরে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। তবে ট্রাফিকের সব সদস্য উপস্থিত রয়েছেন। তারা নিরাপদে দায়িত্ব পালন করছেন। সড়কের যে আইন রয়েছে, সেই আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে যানজট কমবে বলে আশাবাদী।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রামপুরা বাজারের কাটা স্থানে একজন ট্রাফিক পুলিশের সদস্য রাস্তায় দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রাফিক পুলিশের সিগন্যাল অমান্য করেই চলছে যানবাহন। তিন রাস্তার লেন যেন পুরোটাই রিকশার দখলে। এর মধ্যে শহরে চলাচলরত পাবলিক বাস সার্ভিসগুলো যেখানে-সেখানে থামিয়ে যাত্রী ওঠাচ্ছে আবার নামাচ্ছে। রামপুরা বাজারের পরে আবুল হোটেল মোড়ে দুজন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যের দেখা মেলে। তারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে যানজট নিরসনের কাজ করছেন। বাড্ডা লিংরোড থেকে আবুল হোটেল, এখানে গাড়ির রাস্তা ২০ মিনিট। কিন্তু যানজটে ও রিকশার কারণে সময় লেগেছে প্রায় দুই ঘণ্টা। একই চিত্র দেখা গেছে পল্টন মোড়ে। ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা যানজট নিরসনে হিমশিম খাচ্ছেন। রাস্তার এক পাশে প্রাইভেট গাড়ির পার্কিং, এরপর যাত্রী নেওয়ার জন্য ফাঁকা রিকশা দাঁড়িয়ে আছে। ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা তাদের সরিয়ে দিলেও তারা যাচ্ছে না। কেউ যেন তোয়াক্কাই করছে না ট্রাফিক পুলিশদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পল্টন এলাকায় দায়িত্বরত এক ট্রাফিক পুলিশের সদস্য বলেন, রোদ-বৃষ্টির মধ্যে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা সড়কে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তাদের বসার মতো কোনো স্থান নেই। সকাল ৬টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত এবং ২টা থেকে ১১টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। তাদের বিশ্রামের জন্য স্থান নেই। ওয়াসরুমে যাওয়ার মতো স্থান নেই। তারপরও যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন রাস্তার যানজট নিরাসনের জন্য। কিন্তু একটানা দায়িত্ব পালনে অসুস্থ হয়ে পড়ছে অনেক ট্রাফিক পুলিশের সদস্য।
ট্রাফিকের আরেক পুলিশ সদস্য বলেন, যানজট নিরসনের জন্য আইন প্রয়োগ করতে হবে। কিন্তু বর্তমানে সবাই স্বাধীন। আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নিতে গেলে কি না, পুলিশের ওপরেই হামলা চালায় এমন আতঙ্ক বিরাজ করছে অনেক ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের মধ্যে। তাই অনেকেই সচেতন হয়ে রাস্তায় দায়িত্ব পালন করছেন।
