আল্লাহর ভয়ে কান্নার ফজিলত

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৪, ১২:০৩ এএম

চোখের জল অন্তরকে নরম করে। হৃদয়ে আনে প্রশান্তির ছোঁয়া। পাহাড় সমান দুঃখকেও করে দেয় তুলার মতো হালকা। মানুষের অন্তর ক্রন্দনকারীর প্রতি খুব সহজে আকর্ষিত হয়। আল্লাহর ভয়ে কেউ কান্না করলে আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন। তার কাছে কান্না করে কেউ ক্ষমা চাইলে তিনি ক্ষমা করে দেন। তার ভয়ে ক্রন্দনকারীর জন্য তিনি চিরসুখের জায়গা জান্নাতের ফয়সালা করে দেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দনকারী ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। যেরূপ দোহনকৃত দুধ আবার স্তনে ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। (তিরমিজি)

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, দুটি চোখকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। এক. যে চোখ আল্লাহর ভয়ে কাঁদে। দুই. যে চোখ আল্লাহর রাস্তায় পাহারাদারিতে বিনিদ্র রজনী যাপন করে। (সহিহ মুসলিম) রাসুল (সা.) আরও বলেন, মহান আল্লাহ কেয়ামতের দিন সাত শ্রেণির লোককে আরশের নিচে জায়গা দেবেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ওই ব্যক্তি, যে নীরবে-নিভৃতে আল্লাহর স্মরণ করে, ফলে তার চোখ দুটি অশ্রু বর্ষণ করে। (সহিহ বুখারি) আল্লাহর ভয়ে সামান্য কান্নারও রয়েছে অনেক সওয়াব। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে মুমিন বান্দার দুই চোখ থেকে আল্লাহর ভয়ে পানি বের হয়, যদিও তা মাছির মাথার পরিমাণ হয় এবং তা চেহারায় বেয়ে পড়ে, তাতে আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দেন। (ইবনে মাজাহ)

যুগে যুগে আল্লাহর প্রিয় নবী-রাসুলরা কেঁদেছেন, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ি, তাবে তাবেয়িন এবং উম্মতের শ্রেষ্ঠ মনীষীরাও কেঁদেছেন। সাবেত আল বুনানি (রহ.)-এর চোখের জ্যোতি ক্ষীণ হয়ে গিয়েছিল। ডাক্তারের কাছে পরামর্শ চাওয়া হলো। ডাক্তার অধিক কান্নার কারণ জানতে পেরে পরামর্শ দিলেন, কান্না বন্ধ করতে হবে, তাহলেই চোখ ঠিক হয়ে যাবে। উত্তরে তিনি বললেন, এমন চোখ দিয়ে আমার কী লাভ, যে চোখে কান্না নেই? এমনই ছিল তাদের কান্না। এমন হৃদয় থেকে মুক্তি চাই, যে হৃদয়ে আল্লাহর ভয় নেই। এমন চোখ থেকে মুক্তি চাই, যে চোখ আল্লাহর ভয়ে কাঁদে না। রাসুল (সা.) বলেন, সেই মহান সত্তার কসম, (আখেরাতের ভয়াবহতা সম্পর্কে) আমি যা জানি, যদি তোমরা তা জানতে, তাহলে বেশি করে কাঁদতে এবং কম করে হাসতে। (সহিহ বুখারি)

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত