বৈষম্যমূলক সব আইন বাতিলের সিদ্ধান্ত

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৪, ১০:১৯ পিএম

বৈষম্যমূলক সব আইন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমিতে প্রধান উপদেষ্টা এবং অন্যান্য উপদেষ্টাদের সমন্বয়ে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। প্রধান উপদেষ্টার যমুনা কার্যালয়ে আজ বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবার’ সংক্রান্ত বিধান বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার জন্য নিরাপত্তা প্রয়োজন। এটি অনুভূত হয়েছে যে, কিছু বিধান বাতিল করা প্রয়োজন এবং তাই উপদেষ্টা পরিষদ সর্বসম্মতভাবে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) আইন, ২০২১ সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উপদেষ্টা পরিষদ আইন ও সংসদীয় বিষয়ক বিভাগ দ্বারা যাচাই সাপেক্ষে ‘জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৪’’ খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।

বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হচ্ছে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ফল”। উপদেষ্টা পরিষদ এটিকে "বৈষম্যমূলক" বিবেচনা করে আইন সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি বলেন, জোরপূর্বক গুম করা থেকে সকল ব্যক্তির সুরক্ষা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশন বিষয়ক দলিলে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেছে যাতে জোরপূর্বক গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করার বিষয়ে দেশের অঙ্গীকার প্রতিফলিত হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা এই দলিলে স্বাক্ষর করেছেন। প্রায় ৭০০ জন এখনও জোরপূর্বক গুমের কারণে নিখোঁজ রয়েছেন। ‘মায়ের ডাক’সহ বিভিন্ন সংগঠন এই বিষয়ে কাজ করছে। 

তিনি এমন একটি ব্যবস্থা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন যাতে কেউ ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে আইন প্রয়োগকারী ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে জোরপূর্বক কাউকে গুম করতে না পারে।

রেজওয়ানা বলেন, “আমাদের মধ্যে অনেকেই বলপূর্বক গুমের শিকার হয়েছে। আমরা কনভেনশনে স্বাক্ষর করেছি, যাতে কেউ সরকার বিরোধী কার্যকলাপ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার নামে অভিযোগ করে কোনো বাহিনী বা অন্য যে কোনো উপায়ে কোনো নাগরিককে জোরপূর্বক গুম করতে না পারে।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত