ভেসে গেছে ৪৭ পুকুরের মাছ, দিশেহারা চাষি

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৪, ০৯:৩৭ এএম

‘তিল তিল করে গড়া ৪০ বছরের কষ্টার্জিত মাছের খামার নিমিষেই শেষ হয়ে গেল। আজ আমাকে পথে বসতে হবে। আমার আর কিছুই রইল না। এই ক্ষত কীভাবে শুকাবে জানি না। ও আমার মালিক, এত বড় শাস্তি দিলে! এমন হবে জীবনে কখনো কল্পনাও করিনি।’ এসব কথা বলে হাউমাউ করে কেঁদে ফেললেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মৎস্যচাষি আবদুল মান্নান। তিনি পৌর সদরের দৌলতপুর গ্রামে বিসমিল্লাহ মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার প্রতিষ্ঠিত করেন।

তিনি আরও বলেন, ৪০ বছর ধরে মাছ চাষ করে আসছেন। তার খামার থেকে ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মাছ যেত। ছোট মাছ থেকে শুরু করে সব প্রজাতির মাছ উৎপাদন করা হতো খামার থেকে। এ খামারে অন্তত ১৫-২০ জন শ্রমিক কাজ করতেন। প্রতি মাসে এই খামার থেকে কোটি টাকার মাছ বিক্রি হতো। আকস্মিক বন্যায় ৪৭টি পুকুর ডুবে গিয়ে সব মাছ চলে যায়।

খামারটির পরিচালক আবুল খায়ের বাবুল বলেন, ‘আমি আমার আব্বার সঙ্গে খামারের সব কাজে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে আসছি। এ খামারের ছোট-বড় পুকুর মিলে ৪৭টি মৎস্য প্রজেক্ট রয়েছে। কিন্তু এবারের বন্যায় আমাদের সব প্রজেক্টের মাছ জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে। এতে করে আমাদের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা হবে। প্রজেক্টগুলো চালাতে গিয়ে আমরা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দুই কোটি টাকার লোন নিয়েছি। এ অবস্থায় আমরা কীভাবে এ লোনগুলো পরিশোধ করব তা বুঝতে পারছি না। তাই সরকারের কাছে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাছ চাষে কুমিল্লার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নাঙ্গলকোট উপজেলা। এখানে প্রতিটি গ্রামে মাছ চাষের পুকুর রয়েছে। এমন কোনো পরিবার নেই, মাছ চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই। পুরো উপজেলায় ৩০০ থেকে ৩৫০ জন মাছচাষি রয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া আক্তার লাকি বলেন, ‘এখানে অনেক মাছচাষি রয়েছেন। বন্যায় সব পুকুর ভেসে গেছে। মাছচাষিদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে যখন তালিকা চাওয়া হবে, তখন আমরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ তালিকায় তাদের নাম দেব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত